প্রতিরক্ষা উদ্যোক্তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও ১০ কোটি টাকা দাবি: পর্দাফাঁস আন্তর্জাতিক গ্যাংয়ের

প্রতিরক্ষা খাতের উদ্যোক্তা সাহিল লুথরার কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির চেষ্টার ঘটনায় তদন্তে গতি এসেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাক্তন এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই তদন্তে এখন উঠে আসছে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র, বিশেষ করে কানাডাভিত্তিক গ্যাংস্টার নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: বিজয়ন ত্রিশূল ডিফেন্স সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড (VTDS)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহিল লুথরা অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি পাচ্ছেন। নিজেকে গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার ও খালিস্তানি চক্রের সদস্য দাবি করে এই টাকা দাবি করা হয়। যেহেতু সাহিল লুথরার কোম্পানি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কাজে যুক্ত, তাই এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার নিরিখেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতার ও তদন্তের মোড়: তদন্তে নেমে পুলিশ পাঞ্জাব পুলিশের প্রাক্তন কর্মকর্তা যশবন্ত সিংকে গ্রেফতার করে, যিনি অভিযুক্ত সাহিল লুথরার কোম্পানিতেই কর্মরত ছিলেন। এছাড়া শামশের সিং ওরফে স্যাম এবং গুরপিন্দর সিং ওরফে প্রিন্স নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্তরা এই পুরো ষড়যন্ত্রে সক্রিয়ভাবে লজিস্টিক সাপোর্ট ও মোবাইল সিম কার্ডের জোগান দিয়েছে।

কানাডা যোগ: গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এখন মূল লক্ষ্য—এই চাঁদাবাজির সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত কোনো গ্যাংস্টারের সরাসরি যোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা। বিশেষ করে কানাডাভিত্তিক গ্যাংস্টার ও খালিস্তানি চক্রের সঙ্গে এই তিনজনের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি কি কোনো বড় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ, নাকি শুধুমাত্র স্থানীয় অপরাধীদের কাজ—তা নিশ্চিত হতে দেশি ও বিদেশি উভয় দিকেই নজর রাখা হচ্ছে।

প্রশাসনের বার্তা: ঘটনাটি বর্তমানে সক্রিয় তদন্তাধীন। দোষীদের শনাক্ত করতে ও এর আন্তর্জাতিক শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সত্য উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *