ভাইয়ের কষ্টই প্রেরণা! দৃষ্টিহীনদের জন্য ‘স্মার্ট গগলস’ বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন এই ছাত্র

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অসম্ভবকে সম্ভব করলেন ঝাড়খণ্ডের রাঁচির সরকারি আইটিআই-এর ছাত্র বাবুলাল কর্মালি। নিজের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভাইয়ের দৈনন্দিন কষ্ট ও যাতায়াতের সমস্যা দূর করতে তিনি তৈরি করেছেন এক অভিনব ‘স্মার্ট গগলস’, যার খরচ মাত্র ৬০০ টাকা। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বনির্ভর ও সুরক্ষিত পথচলায় এই আবিষ্কার এক নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কীভাবে কাজ করে এই স্মার্ট গগলস?
বাবুলালের তৈরি এই স্মার্ট গগলসে বসানো হয়েছে বিশেষ সেন্সর। চশমাটি পরলে এটি আশেপাশের পরিবেশের সঙ্গে পরিধানকারীর দূরত্ব মেপে নিতে পারে।
-
সুরক্ষাকবচ: রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কোনো দেওয়াল, খুঁটি, যানবাহন বা অন্য কোনো বাধা সামনে এলেই সেন্সরটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
-
সতর্ক সংকেত: সামনে বাধা থাকলেই গগলস থেকে সাইরেন বেজে ওঠে, যা ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়। এর ফলে দৃষ্টিহীন ব্যক্তি সহজেই দিক পরিবর্তন করে দুর্ঘটনা এড়াতে পারেন।
অনুপ্রেরণার উৎস ছিল পরিবারের ভালোবাসা
বাবুলাল রামগড় জেলার ছোটকি পোন্না গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, তাঁর বড় ভাই জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। শৈশব থেকে বড় ভাইকে বাইরের দুনিয়ায় চলাফেরা করতে পদে পদে হোঁচট খেতে এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে দেখেছেন তিনি। ভাইয়ের এই অসহায়ত্বই তাঁকে গবেষণায় অনুপ্রাণিত করেছে। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড মেকানিক্স বিভাগের ছাত্র হিসেবে তিনি ঠিক করেন, এমন কিছু তৈরি করবেন যা তাঁর ভাইয়ের মতো হাজার হাজার মানুষের জীবন সহজ করবে।
সফলতার নেপথ্যে পরিশ্রম
রাঁচির হেহাল সরকারি আইটিআই-তে পড়াশোনা করার সময় নিজের শিক্ষক পরমানন্দ রাজাকের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় তিনি এই স্মার্ট গগলসের ধারণাটি বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। নামমাত্র খরচে প্রযুক্তিকে মানুষের সেবায় কাজে লাগানোর এই নজির এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
বাবুলালের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আজ অনেকের কাছেই বড় আশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মহল মনে করছে, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো যদি এই ধরনের আবিষ্কারের পাশে দাঁড়ায়, তবে ভবিষ্যতে এটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।