টিআরপি রিপোর্ট বন্ধ! শুটিং ফ্লোরে বাড়ল শান্তি নাকি অনিশ্চয়তা? মুখ খুললেন টেলি-তারকারা

প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার টিভির পর্দায় চোখ থাকতো দর্শক থেকে শিল্পী—সবারই। কোন ধারাবাহিক এগিয়ে, কে পিছিয়ে, তার সাপ্তাহিক হিসেব বা টিআরপি (TRP) নিয়ে চলতো চুলচেরা বিশ্লেষণ। কিন্তু তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশে ‘ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল’ বা বার্ক (BARC)-এর টিআরপি প্রকাশ আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত। লাইসেন্স নবীকরণ না হওয়া পর্যন্ত এই রেটিং চার্ট আসবে না। এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে টেলিপাড়ার অন্দরে কী প্রভাব পড়েছে? চাপ কমল, নাকি বাড়ছে অনিশ্চয়তা? জানতে ‘আজকাল ডট ইন’-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল জনপ্রিয় ধারাবাহিকের তারকাদের সঙ্গে।
টিআরপি কি সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি?
টিআরপি বন্ধ হওয়া নিয়ে স্বস্তিকা দত্ত থেকে শুরু করে অর্ণব ব্যানার্জি—সবার সুরেই মিশেছে পেশাদারিত্বের ছাপ।
স্বস্তিকা দত্ত: ‘প্রোফেসার বিদ্যা ব্যানার্জি’-র নায়িকা মনে করেন, টিআরপি ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করে এবং দলের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি জানান, “টিআরপি আসুক বা না আসুক, আমার কাজে কোনো খামতি থাকবে না। তবে একটা স্বীকৃত মাধ্যম থাকলে ভালো হয়।”
অর্ণব ব্যানার্জি: এই অভিনেতা টিআরপির ইঁদুর দৌড়ে বিশ্বাসী নন। তিনি সাফ জানালেন, “আমি কোনোদিন রেটিং দেখে কাজ করিনি। টিআরপি বন্ধ হওয়ায় বরং প্রতিযোগিতা কমবে, কাজের চাপ কমবে।”
আরাত্রিকা মাইতি: ‘জোয়ার ভাঁটা’-র এই নায়িকা খানিকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা বেঙ্গল টপার হচ্ছিলাম, ঠিক তখনই রিপোর্ট আসা বন্ধ হলো। এটা আমাদের জন্য মন খারাপের। তবে টিআরপির চাপে ভালো কাজ অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়, সেই দিক থেকে এই সময়টা ছোট বা নতুন ধারাবাহিকগুলোর জন্য ভালো।”
পল্লবী শর্মা: অভিজ্ঞ অভিনেত্রী পল্লবী মনে করেন, অভিনয় নিয়ে মাতামাতিটা আগে কম ছিল, এখন তা অনেক বেড়েছে। তাঁর মতে, “টিআরপি এল কি এল না, তা নিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বেশি না ভাবাই ভালো। কাজটুকু মন দিয়ে করলে মানসিক চাপ এমনিতেই কমবে।”
শিল্পীদের চোখে নতুন বাস্তবতা:
টিআরপি বন্ধ থাকায় ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল। কিন্তু শিল্পীদের কথায় একটা বিষয় স্পষ্ট, রেটিং চার্ট চূড়ান্ত মাপকাঠি হলেও, দিনশেষে অভিনয়ের গুণমান এবং পরিশ্রমই দর্শকদের কাছে ধারাবাহিককে জনপ্রিয় করে তোলে। টিআরপির ইঁদুর দৌড় থেকে সাময়িক বিরতি অনেককে যেন নতুনভাবে ‘নিশ্চিন্তে’ কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।
টিআরপি থাকুক বা না থাকুক, বাংলা টেলিভিশনের দর্শকরা যে প্রিয় তারকাদের দেখতেই পর্দায় চোখ রাখবেন, সে কথা বলাই বাহুল্য। তবে দীর্ঘমেয়াদী এই বিরতি টেলিপাড়ার ব্যবসার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।