দূর থেকে বন্ধ করা যাচ্ছে ই-রিকশা? হ্যাকিংয়ের ভাইরাল দাবি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ পরিবহন মন্ত্রীর

দিল্লির রাস্তায় চলাচলকারী ই-রিকশাগুলো কি তবে হ্যাকারদের কবলে? একটি বিতর্কিত চীনা অ্যাপ ‘BAT BMS’ ব্যবহার করে ই-রিকশা হ্যাক করা এবং দূর থেকে তা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি সংবলিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই গুরুতর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লি সরকারের পরিবহন মন্ত্রী ডঃ পঙ্কজ সিং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
কী বললেন পরিবহন মন্ত্রী? টিভি৯ ভারতবর্ষকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী ডঃ পঙ্কজ সিং জানিয়েছেন, তিনি নিজেও বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। দিল্লি পুলিশ ও পরিবহন বিভাগকে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে।”
অভিযোগকারী চালকরা কোথায় যাবেন? কোনো ই-রিকশা চালক যদি এমন সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে তিনি কোথায় অভিযোগ জানাবেন? মন্ত্রীর স্পষ্ট উত্তর, “এটি একটি পুলিশি বিষয়। ভুক্তভোগী চালকদের নিকটস্থ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে হবে। দিল্লি পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই পরিবহন বিভাগ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
অ্যাপ নিষিদ্ধ করার দাবি ও সরকারের অবস্থান: সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই বিতর্কিত চীনা অ্যাপটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অভিযোগগুলো আগে যাচাই করা জরুরি। বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা থেকে শুরু করে যাবতীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ই-রিকশা নীতিতে কি নিরাপত্তা বদল? দিল্লি সরকার বর্তমানে ই-রিকশা নিয়ে একটি নতুন নীতি (Policy) প্রণয়নের কাজ করছে। এই হ্যাকিং বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নীতিতে সুরক্ষার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ডঃ পঙ্কজ সিং বলেন, “ই-রিকশা অবশ্যই নিরাপদ হওয়া উচিত। রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের উপস্থিতি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও নতুন নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”
পুরো ঘটনাটি কী? সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট একটি অ্যাপের মাধ্যমে ই-রিকশার ব্যাটারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হ্যাক করে তা মাঝরাস্তায় থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কি কোনো পরিকল্পিত জালিয়াতি রয়েছে, নাকি ভিডিওগুলো বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য তৈরি—তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তা স্পষ্ট নয়।
তবে দিল্লির রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম এই ই-রিকশা নিয়ে এই ধরনের হ্যাকিংয়ের দাবি জনমনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।