ভবনের ছাদ থেকে কৃত্রিম বৃষ্টি! তাপপ্রবাহ কমাতে চিনের অভিনব আবিষ্কার ঘিরে শোরগোল

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কবলে জনজীবন। ভারত থেকে ইউরোপ—সর্বত্রই যেন আগুনের হলকা। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিন এবার নিয়ে এল এক অবাক করা প্রযুক্তি—‘রুফটপ রেইন’ বা ‘ছাদের বৃষ্টি’। ভবনের ছাদ থেকে কুয়াশার মাধ্যমে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের এই ব্যবস্থা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি? চিনের শানসি প্রদেশের একটি আবাসিক এলাকায় সম্প্রতি এই মিস্ট কুলিং সিস্টেম বা কুয়াশা শীতলীকরণ ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাড়ির ছাদ থেকে সূক্ষ্ম জলের কণা বৃষ্টির মতো ছড়িয়ে পড়ছে, যা চারপাশের বাতাসকে মুহূর্তের মধ্যে শীতল করে দিচ্ছে। প্রযুক্তিটি নিয়ে দাবি করা হয়েছে, এটি পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম।

বিতর্কের কেন্দ্রে পানির অপচয়: প্রযুক্তিটি আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তিদায়ক মনে হলেও, নেটপাড়ায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

  • সমালোচকদের প্রশ্ন: পানির তীব্র সংকট যখন বিশ্বের অনেক প্রান্তের বাস্তব চিত্র, তখন এভাবে ক্রমাগত কৃত্রিম বৃষ্টিতে পানির ব্যাপক অপচয় কি যুক্তিযুক্ত?

  • পক্ষে যুক্তি: প্রযুক্তিপ্রেমীদের একাংশের মতে, এই সিস্টেমে ব্যবহৃত পানি সম্ভবত রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করা হয়। এতে অপচয় অনেক কম হতে পারে। তবে চিনা কর্তৃপক্ষের তরফে এই পানির উৎস বা পুনর্ব্যবহার নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রয়োজনীয় সমাধান না বিলাসিতা? চীনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং এই সিস্টেমের ভিডিও টুইটারে শেয়ার করার পর তা হু হু করে ভাইরাল হয়েছে। যদি এই প্রযুক্তি সত্যিই সফল এবং টেকসই হয়, তবে ভবিষ্যতে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মোকাবিলায় এটি আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে পরিবেশবিদরা মনে করছেন, পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট না করে প্রযুক্তি ব্যবহার করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ।

তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে চিনের এই পদ্ধতি কি সত্যিই আগামী দিনের সমাধান হতে পারে, নাকি এর দীর্ঘমেয়াদী কুপ্রভাব পড়বে? সেদিকেই এখন নজর রাখছে বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *