ক্ষমতা বদলের প্রভাব তারাপীঠ মন্দিরেও! নতুন সভাপতি বিজেপি নেতা নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আঁচ সরাসরি এসে পড়ল বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরের পরিচালন সমিতিতে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভেঙে ফেলা হলো তারাপীঠ মন্দির উন্নয়ন পর্ষদ বা মন্দির কমিটি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই গঠিত হলো নতুন কমিটি। সভাপতি করা হয়েছে গত বিধানসভা নির্বাচনে হাসনের বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে, নতুন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মন্দিরের মুখ্য সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায়।
কেন এই পরিবর্তন? নতুন সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “মন্দিরের এক শ্রেণির সেবাইত নিজেদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মন্দির কমিটিকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর সেই অগণতান্ত্রিক কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন স্বচ্ছ কমিটি গঠন করা হয়েছে।”
কী কী নতুন নিয়ম আসতে পারে? মন্দির দর্শনের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ভক্তদের সুবিধার্থে কিছু নতুন প্রোটোকল চালু করার পরিকল্পনা চলছে:
-
দুটি আলাদা লাইন: সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে এবং ভোগান্তি কমাতে আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা হবে।
-
বিশেষ লাইন: সাধারণ ভক্তদের পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রোটোকল মেনে আসা ভিআইপি বা বিশেষ দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে আলাদা বিশেষ লাইন।
-
পুজোর নিয়ম-রীতি: পুজোর নিয়ম-রীতিতেও কিছু সংস্কার আনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সকল সেবাইত ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করা হবে।
তারাপীঠের গুরুত্ব: উল্লেখ্য, তারাপীঠ শুধু একটি মন্দির নয়, এটি ভারতের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ ও তান্ত্রিক সাধনার পীঠস্থান। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত মা তারার দর্শন ও মহাশ্মশানে সাধনার জন্য এখানে ভিড় জমান। বিশেষ করে অমাবস্যা বা কালীপুজোর দিনে এখানে ভক্তদের চাপ থাকে তুঙ্গে।
নতুন এই কমিটির অধীনে মা তারার মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধা কতটা বৃদ্ধি পায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বীরভূমবাসী ও ভক্তকূল।