অতীতের লুকোচুরি শেষ! অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নবান্নে পুলিশকে নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় রাজ্য সরকার ও পুলিশের কাজের ধারা নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগের সরকারের মতো অপরাধের তথ্য আর গোপন রাখা হবে না। অপরাধ নথিভুক্ত করা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়ে পুলিশ আধিকারিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
অপরাধ লুকানোর দিন শেষ: দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের অপরাধের তথ্য (Crime Data) গোপন করার যে অভিযোগ ছিল, তা নিয়ে এদিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে নির্ভয়ে কাজ করার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “অভিযোগ এলে লুকানোর দরকার নেই। এফআইআর করুন এবং তা মোকাবিলা করুন। ব্যাধি আড়াল করলে তা বাড়বে, তখন সামলানোর সময় পাবেন না।” কেন্দ্র যে তথ্য চায়, তা যেন কোনোভাবেই কম না পাঠানো হয়, সে বিষয়েও তিনি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
নারী সুরক্ষায় ‘দুর্গা স্কোয়াড’ ও সাইবার নিরাপত্তা: নারী নির্যাতন ও পকসো (POCSO) আইনের ক্ষেত্রে আরজি করের মতো ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে, তা এদিন আরও একবার স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রতিটি থানায় এবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘সাইবার হেল্প ডেস্ক’ এবং ‘মহিলা হেল্প ডেস্ক’। পাশাপাশি, পথেঘাটে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাত্রা শুরু করল ‘দুর্গা স্কোয়াড’। সাইবার প্রতারণার শিকার বয়স্ক মানুষ ও অবসরপ্রাপ্তদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি সাইবার অপরাধ দমনে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।
আগামী পুজোর আগেই বড় উপহার ‘১১২’: পুলিশের পরিকাঠামো আধুনিকীকরণে জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী দুর্গাপুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হবে ‘১১২’ (Emergency Response) পরিষেবা। বর্তমানে যেখানে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে, সেখানে এই পরিষেবা চালু হলে এবং প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ করলে রেসপন্স টাইম ৫ মিনিটে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পুলিশকে স্বাধীনতার বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সরকারি কাজে বাধা দেওয়া বা দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিন। আপনাদের কাজে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে না।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান, পুলিশকর্মীদের মনোবল বাড়াতে সরকার তাদের পাশে আছে এবং অন-স্পট সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের দেওয়া হয়েছে।
তারাতলা দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য কলকাতা পুলিশ ও দমকলের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পুলিশের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে মুখ্যমন্ত্রী এই নতুন দিশা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।