১২ জন শ্রমিককে দেড় বছর ধরে বন্দী! কারখানার আড়ালে এ কী নরকযন্ত্রণা? কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরে একটি কাগজের প্লেট তৈরির কারখানায় শ্রমিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও বন্ধনশ্রমের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। উত্তরপ্রদেশ সরকারের মুখ্য সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি (DGP)-কে নোটিশ পাঠিয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

কারখানার ভেতরের বিভীষিকা: মুজাফফরনগরের মান্ডি গ্রামের এক কারখানায় ১২ জন শ্রমিককে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্দী করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের বয়ান অনুযায়ী, তাদের মধ্যরাত পর্যন্ত অমানুষিক পরিশ্রম করানো হতো। মজুরি তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। প্রতিবাদ করলেই জুটত মারধর।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, শ্রমিকদের ভয় দেখাতে এবং যাতে তারা পালাতে না পারে, সেজন্য কারখানা চত্বরে পিটবুল কুকুর ছেড়ে রাখা হতো। মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়ায় তারা পরিবারের সাথেও যোগাযোগ করতে পারতেন না।

কীভাবে ফাঁস হলো ঘটনা? এক শ্রমিক কারখানা থেকে প্রাণ বাঁচাতে কোনোমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই স্থানীয় তিতাভি থানা অভিযান চালায় এবং বাকি শ্রমিকদের উদ্ধার করে। ডাক্তারি পরীক্ষায় উঠে এসেছে দীর্ঘ শারীরিক নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র—কারও হাড় ভাঙা, তো কারও শরীরে গভীর ক্ষত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে একজনের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে এই চক্রে আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কমিশনের কড়া নির্দেশ: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া:

  • ‘বন্ডেড লেবার সিস্টেম (অ্যাবোলিশন) অ্যাক্ট ১৯৭৬’ অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • উদ্ধার হওয়া সকল শ্রমিককে অবিলম্বে ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধিত করতে বলা হয়েছে, যাতে তারা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পান।

নিজেদের জীবিকার খোঁজে এসে শ্রমিকরা কীভাবে অপরাধী চক্রের শিকারে পরিণত হলেন এবং কেন প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এমন ঘটনা দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। কমিশনের এই হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগীরা সুবিচার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *