ডোপিং এজেন্টদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, নতুন বিলে কড়া শাস্তির মুখে অপরাধীরা

খেলার মাঠে ডোপিংয়ের বিষবাষ্প রুখতে এবার আরও কঠোর হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। নিষিদ্ধ পদার্থের পাচারকারী, অবৈধ সরবরাহকারী এবং ডোপিং নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে জাতীয় ডোপিং-বিরোধী আইন সংশোধনের পথে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তরফে এই সংক্রান্ত একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংসদে পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এই কঠোর আইন? বিশ্ব ডোপিং-বিরোধী সংস্থা (WADA) এবং ইউনেস্কো কনভেনশনের গাইডলাইন মেনে ভারতের বর্তমান ডোপিং-বিরোধী আইনকে আরও শক্তিশালী করতে চায় সরকার। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আইনের মূল লক্ষ্য ক্রীড়াবিদদের অপরাধী সাব্যস্ত করা নয়, বরং ক্রীড়াজগৎকে কলুষিত করা ওই সংগঠিত অপরাধী চক্রের কোমর ভেঙে দেওয়া।
কী কী অপরাধে মিলবে শাস্তি? প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, নিচে উল্লেখিত কাজগুলো গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে:
-
নিষিদ্ধ পদার্থের অবৈধ পাচার, কেনাবেচা বা বিতরণ।
-
ক্রীড়াবিদদের ডোপিং-এর উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পদার্থ প্রয়োগে প্ররোচনা দেওয়া।
-
অপ্রাপ্তবয়স্ক ক্রীড়াবিদদের কাছে এই ধরনের পদার্থ সরবরাহ করা।
-
ডোপিং-কে উৎসাহিত করে এমন বিজ্ঞাপন প্রচার বা আর্থিক লেনদেন।
-
লেবেলিং ছাড়া নিষিদ্ধ পদার্থ বিক্রি করা।
ক্রীড়াবিদদের জন্য সুরক্ষা: মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডোপিং পরীক্ষায় কেউ পজিটিভ হলেই তাকে অপরাধী হিসেবে দেখা হবে না। যদি না তার বিরুদ্ধে পাচার বা কোনো অপরাধমূলক চক্রের সাথে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ডোপিং-বিরোধী কাঠামো অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, চিকিৎসকের পরামর্শে যারা থেরাপিউটিক ইউজ এক্সাম্পশন (TUE) পেয়েছেন, তাদের জন্য এই আইনে সুরক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে।