অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলা: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট, তলব ব্যাঙ্কের হলফনামা

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা সংক্রান্ত মামলায় আজ কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হলো। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে পুলিশের কার্যপদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এই জটিল আইনি পরিস্থিতির মাঝে আপাতত দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়টি বিবেচনা করছে আদালত।

পুলিশের ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ হাইকোর্টের শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ দায়ের হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে একটি রাজনৈতিক দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হলো? যে অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার আগে ওই অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের রেকর্ড ছিল না। তাহলে পুলিশ কোন আইনি ভিত্তিতে এত তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।

সলিসিটর জেনারেলের পাল্টা যুক্তি অন্যদিকে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা আদালতের প্রশ্নের উত্তরে দাবি করেন, তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যাকাউন্টগুলো থেকে বড় অঙ্কের টাকা ‘সাইফন’ (সরিয়ে নেওয়া) হয়েছে। তিনি আদালতে ইঙ্গিত দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন একাধিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং পৃথক পৃথক নেতার বয়ান উঠে আসছে। এমতাবস্থায় ‘প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস’ কারা, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট চালুর নির্দেশ দেওয়া আইনিভাবে অত্যন্ত জটিল।

মামলার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ উল্লেখ্য, তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের একটি চিঠির ভিত্তিতে পুলিশ দলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে দিয়েছিল। এর বিরুদ্ধে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলাকারীর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করেন, রাজনৈতিক দলকে পঙ্গু করার লক্ষ্যেই পুলিশকে ব্যবহার করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ বিচারপতি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আগামী বুধবারের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। কোন যুক্তিতে এবং কী পরিস্থিতিতে তারা এই অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করেছিল এবং সেখানে বর্তমানে কত টাকা গচ্ছিত আছে, তার বিস্তারিত তথ্য হলফনামায় জানাতে হবে। সেই হলফনামা খতিয়ে দেখার পরই অ্যাকাউন্ট চালু করার বিষয়ে পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেবে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *