হকার উচ্ছেদ নিয়ে রেলকে ধমক হাইকোর্টের: “কোন কাঠামো ভাঙছেন আগে বলুন”, মিলল বড় স্বস্তি

রেলের জমিতে হকার উচ্ছেদ নিয়ে ফের কড়া অবস্থানে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত ওই স্টেশনে কোনো হকারকেই সরানো যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেলকে কী প্রশ্ন করল হাইকোর্ট? মামলা চলাকালীন রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেন, হকার উচ্ছেদের জন্য কোনো নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য। তিনি রেলের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু কোন কাঠামো উচ্ছেদ করা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলুন। নাহলে আমরা এই নোটিশই খারিজ করে দেব।”
একইসঙ্গে আদালতের পক্ষ থেকে রেলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা হকারদের তালিকা করেছে কি না। কাদের লাইসেন্স রয়েছে, আর কাদের নেই—সেইসঙ্গে কাদের কাঠামো ‘কাঁচা’ আর কাদের ‘পাকা’, এই বিভাজন রেল স্পষ্ট করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ।
সব হকারের জন্য স্বস্তি এর আগে একক বেঞ্চের নির্দেশে কেবল যারা আদালতে আবেদন করেছিলেন, তাদেরই উচ্ছেদ না করার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আপাতত মধ্যমগ্রাম স্টেশনের সব হকারের ক্ষেত্রেই এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। রেলের আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সমস্ত হকারকে ছাড় দেওয়া অসম্ভব। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রাহ্য না করে জানায়, যেহেতু সবাই একই পরিস্থিতির শিকার, তাই তাদের আলাদা করা যায় না।
বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর উল্লেখ্য, এর আগেও হকার সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, উচ্ছেদের আগে রেলকে অবশ্যই হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজে দিতে হবে। সেই নির্দেশের কথা মাথায় রেখেই রেলের চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযানের ওপর এদিন স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।
শহরের বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর এবং ডানকুনি—রাজ্যের একাধিক জায়গায় হকার উচ্ছেদ নিয়ে এমনিতেই অস্বস্তিতে রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। মধ্যমগ্রাম নিয়ে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ হকারদের জন্য আপাতত বড়সড় আইনি স্বস্তি হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।