মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য বড় বিপদ? কঠোর আইন আনছে সরকার, শুরু হচ্ছে বর্ষাকালীন অধিবেশনের উত্তাপ

ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে প্রস্তাবিত ১৩০তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিল। কোনো মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে টানা ৩০ দিন আটক থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পদ হারাবেন। এই বিতর্কিত বিলটি পর্যালোচনার জন্য গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) আগামী ১৭ জুলাই লোকসভার স্পিকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে।

বিলের মূল বিধানসমূহ:

  • স্বয়ংক্রিয় অব্যাহতি: যদি কোনো মন্ত্রী পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ৩০ দিন বা তার বেশি সময় আটক থাকেন, তবে ৩১তম দিনে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেবেন অথবা তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ হারাবেন।

  • রাজনৈতিক সুরক্ষা: আইনটি যাতে কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হয়, সেজন্য জেপিসি প্রতিবেদনে কিছু সুরক্ষাকবচ বা ‘সেফগার্ড’ যুক্ত করার সুপারিশ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অধিবেশনের প্রস্তুতি: সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রের খবর। গত বছরের আগস্ট মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিলটি সংসদে পেশ করেছিলেন। এরপর অপরাজিতা সারঙ্গির নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের একটি জেপিসি গঠন করা হয়।

বিরোধীদের অবস্থান: কমিটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটভুক্ত বিরোধী দলগুলো। অধিকাংশ বিরোধী সদস্য এই কমিটি বর্জন করেছেন। বিরোধীদের দাবি, এই বিলটি অগণতান্ত্রিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাঠামোর পরিপন্থী। তাদের মতে, দণ্ডাদেশ পাওয়ার আগেই এভাবে কাউকে পদচ্যুত করা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। অন্যদিকে, শাসক দলের মতে, অন্তত তিনটি জামিনের আবেদন করার জন্য ৩০ দিন সময় যথেষ্ট।

কমিটির অন্দরে ভিন্নমত: যদিও জেপিসি-র প্যানেলে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এবং সুপ্রিয়া সুলে-র মতো বিরোধী নেতাদের রাখা হয়েছে, তবুও প্রতিবেদনে তাদের ‘ভিন্নমত নোট’ (Dissent Note) থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আইনটির অপব্যবহার রোধে কমিটি অপরাধের পরিধি আরও সংকুচিত করার পরামর্শ দিতে পারে।

রাজনীতির আঙিনায় এই বিলটিকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ১৭ জুলাই জেপিসি-র রিপোর্ট জমা পড়ার পর বিলটির চূড়ান্ত রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে নজর থাকবে দেশবাসীর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *