শরীরের অদ্ভুত বাঁক, রোলার স্কেটে ম্যাজিক! লিম্বো স্কেটিং-এ ইতিহাস গড়ল খুদে তক্ষী

ক্রীড়া বিশ্বে বয়স যে কোনো বাধা নয়, তা আবারও প্রমাণ করল গুজরাটের আট বছর বয়সী তক্ষী ভাগানি। লিম্বো স্কেটিং-এ নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ে সে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাত্র ১৬ সেন্টিমিটার উচ্চতার একটি বারের নিচ দিয়ে ১০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে সে নিজের নাম লিখিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
কী এই লিম্বো স্কেটিং? অনেকের কাছেই লিম্বো স্কেটিং একটি অপরিচিত খেলা। মূলত এটি সাধারণ স্কেটিং ও লিম্বো নৃত্যের এক অভিনব সংমিশ্রণ। রোলার স্কেট পায়ে থাকা অবস্থায় শরীরকে মাটির সমান্তরালে বা তারও নিচে নামিয়ে একটি দণ্ডের নিচ দিয়ে চলে যেতে হয়। এক্ষেত্রে পা দুটির ভারসাম্য রাখা এবং শরীরের নমনীয়তা অত্যন্ত জরুরি। অংশগ্রহণকারীদের শরীর এত নিচে নামাতে হয় যে, প্রায়ই তাদের মুখ মাটির খুব কাছাকাছি চলে আসে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: লিম্বো খেলার মূল উৎস ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে দাসপ্রথার ইতিহাস থেকে এই নৃত্যের উদ্ভব। ১৯৯৮ সালে এই ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের কৌশলের ওপর ভিত্তি করেই রোলার স্কেটিং-এ ‘লিম্বো স্কেটিং’-এর প্রচলন শুরু হয়। কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ না থাকলেও, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া।
তক্ষীর যাত্রা: মাত্র দুই বছর বয়সে প্রথম রোলার স্কেট দেখে তক্ষী। এরপর চার বছর বয়সে শুরু হয় তার কঠোর প্রশিক্ষণ। দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও কঠোর অনুশীলনের ফল আজকের এই বিশ্ব রেকর্ড। গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট পেয়ে উচ্ছ্বসিত তক্ষী এখন ভারতের গর্ব।
ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো পরিচিত খেলার বাইরেও যে দক্ষতার প্রদর্শনীতে বিশ্বমঞ্চে নাম উজ্জ্বল করা যায়, তা তক্ষী ভাগানি দেখিয়ে দিল। তার এই সাফল্য আগামী দিনে অনেক নতুন অ্যাথলেটকে লিম্বো স্কেটিং-এর মতো চ্যালেঞ্জিং খেলায় উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।