হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘ইউজারনেম’ ফিচার! বড়সড় প্রতারণার ফাঁদ? নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে আসতে চলেছে যুগান্তকারী ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর গোপন রেখেও অন্যদের সঙ্গে চ্যাট বা যোগাযোগ করতে পারবেন—যা অনেকটা ইনস্টাগ্রাম বা টেলিগ্রামের মতো। কিন্তু এই সুবিধা আসার আগেই নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার কথা শোনাল কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন চিন্তায় কেন্দ্র? মেটার দাবি অনুযায়ী, এই ফিচারের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা করা। কিন্তু সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই নতুন ফিচারটি প্রতারকদের জন্য নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ইউজারনেম ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো বিশ্বস্ত সংস্থা বা নামী ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বসে, তবে সাধারণ মানুষ সহজেই সেই প্রতারণার ফাঁদে পা দিতে পারেন।
কী কী ঝুঁকি থাকতে পারে?
-
ভুয়া অ্যাকাউন্ট: বিশিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় কাছাকাছি বানান ব্যবহার করে ইউজারনেম তৈরি করা।
-
স্প্যাম ও জালিয়াতি: অপরিচিত ব্যক্তির থেকে আসা অবাঞ্ছিত বার্তা বা স্প্যাম মেসেজের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
-
তথ্য চুরি: মেটা অ্যাকাউন্ট সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে গোপনীয়তার প্রশ্ন।
মেটা কী বলছে? ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করে মেটা জানিয়েছে, তারা এই অপব্যবহার রোধে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্তকরণের প্রযুক্তি এবং কোনো নির্দিষ্ট ইউজারনেম দিয়ে নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ। এছাড়া, হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও থাকছে।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যবস্থা পুরোপুরি অভেদ্য নয়। ‘rnodi’ বা এই জাতীয় নামের সাদৃশ্য ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা মোটেও কঠিন কাজ নয়।
সরকারের অবস্থান: কেন্দ্রীয় সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। নতুন এই ফিচারের প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফিচারটি বিশ্বজুড়ে চালু হওয়ার কথা থাকলেও, এর প্রভাব নিয়ে এখন থেকেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সবমিলিয়ে, গোপনীয়তা রক্ষার এই নতুন সুবিধা শেষ পর্যন্ত আশীর্বাদ নাকি বড় কোনো বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।