রাম মন্দির অনুদান কেলেঙ্কারি: তদন্তে আরও ১৫ দিন সময় বাড়াল সিট, কোণঠাসা অভিযুক্তরা

অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার অনুদান তছরুপের চাঞ্চল্যকর মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির গভীরে পৌঁছাতে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT)-এর মেয়াদের ওপর আরও ১৫ দিন বাড়ানো হলো। প্রশাসনের দাবি, তদন্ত যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, নিখুঁত এবং সব দিক খতিয়ে দেখে সম্পন্ন করা যায়, তার জন্যই এই বাড়তি সময়।
তদন্তে বড় মোড় ও জিজ্ঞাসাবাদ গত সোমবার পুলিশের বিশেষ দল এই মামলার তদন্তের স্বার্থে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই-এর বয়ান রেকর্ড করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের সূত্র মারফত জানা গেছে, শুধু চম্পত রাই নন, ট্রাস্টের প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রসহ অন্যান্য প্রবীণ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনে ডেকে পাঠানো হতে পারে।
সক্রিয় পুলিশ, জেল হেফাজতে অভিযুক্তরা গত ২৯ জুন অযোধ্যা আদালত এই মামলায় ধৃত সমস্ত অভিযুক্তকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় (জেল) হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। মামলার মূল অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশের বিশেষ দল। উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা গেছে, মন্দিরের চুরি করা টাকা তারা শৌচাগারে লুকিয়ে রাখত—যা শুনে হতবাক তদন্তকারীরা।
ট্রাস্টের দায় স্বীকার ও ইস্তফা এই ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র ইতিমধ্যেই তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “শ্রী রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে যে অনভিপ্রেত ঘটনা সামনে এসেছে, তাতে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। আমরা কোটি কোটি ভক্তদের আশ্বস্ত করছি যে, এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে ট্রাস্ট দায়বদ্ধ।”
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন এই অনুদান চুরির ঘটনায় প্রথম এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। সিট-এর এই বাড়তি ১৫ দিনের সময়সীমা কি কেলেঙ্কারির আসল মাস্টারমাইন্ডদের সামনে আনবে? এখন সেদিকেই নজর রাখছে সারা দেশ।