‘রাম রাজ্য কোষ’-এর নামে চলত প্রতারণা! মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৭, উদ্ধার বিপুল ধনসম্পদ

অযোধ্যা রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নগদ ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ, মার্কিন ডলার এবং বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মন্দির ট্রাস্টের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় আইনজীবী ও সচেতন মহল।

অভিযুক্তদের ডেরায় টাকার পাহাড় ও ‘রাম রাজ্য কোষ’ তদন্তকারী সংস্থা আটজন অভিযুক্তের মধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। প্রধান অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার ভাড়া ঘর থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে একটি রহস্যময় বাক্স, যার উপরে লেখা ছিল ‘রাম রাজ্য কোষ’। এই বাক্সটিই ছিল প্রতারণার মূল হাতিয়ার। এতে একটি কিউআর কোড (QR Code) লাগানো ছিল, যার মাধ্যমে ভক্তদের থেকে সরাসরি অনলাইন অনুদান হাতিয়ে নেওয়া হতো।

কী কী উদ্ধার হয়েছে? তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোট ২০,৩৯,২২০ টাকা এবং ১,১২১ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,০৬,৬৫৭ টাকা) নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত অবিনাশের কাছ থেকে সোনার চেইন ও আংটিও জব্দ করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্ত—লাভকুশ মিশ্র, করুণেশ পান্ডে, তিনু যাদব, রামশঙ্কর মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র এবং মনীশ কুমার যাদবের কাছ থেকেও লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ট্রাস্টের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন আইনজীবীরা এই ঘটনার পর মন্দির ট্রাস্টের ভূমিকা নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রায় ২,০০০ আইনজীবী জন্মভূমি থানায় জড়ো হয়ে চম্পত রায়, অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার দাবি জানিয়েছেন। ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দদেব গিরিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। আর্থিক তদারকিতে গাফিলতি এবং জনসমক্ষে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ট্রাস্টের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠছে।

তদন্তের মূল ফোকাস:

  • কেন দীর্ঘ সময় ধরে এই আর্থিক অনিয়ম চললেও ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি?

  • দানবাক্স বা অনুদান তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গাফিলতি কতদূর?

  • কেন কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে দেরি করা হলো?

তদন্তের পরবর্তী ধাপে ট্রাস্টের আর্থিক হিসাব এবং অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্টের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে এই ধরনের জালিয়াতি সাধারণ ভক্তদের মনে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *