শিপ্রা আরতিতে রণক্ষেত্র! তুচ্ছ বিবাদে লাথি-ঘুষি, আহত নারী-শিশুসহ বহু

মধ্যপ্রদেশের পবিত্র ধর্মীয় নগরী উজ্জয়িনের রামঘাটে শিপ্রা আরতি চলাকালীন ঘটা এক সহিংস সংঘর্ষে স্তম্ভিত ভক্তসমাজ। আরতির পবিত্র পরিবেশ নিমেষের মধ্যেই পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। আরতির সামগ্রী বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে পুরোহিত ও বিক্রেতাদের মধ্যে যে বিবাদ শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত লাথি, ঘুষি এবং মারামারিতে রূপ নেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আরতির জন্য ব্যবহৃত প্রদীপ ও পুজোর সামগ্রীও একে অপরের দিকে ছুড়ে মারা হচ্ছে।
কী ঘটেছিল সেইদিন? গত ২৮ জুন শিপ্রা আরতির সময় এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে খবর, গণেশের বাবা শশীকান্ত শর্মা যখন আরতি করছিলেন, তখন স্থানীয় বিক্রেতারা ভক্তদের কাছে পুজোর সামগ্রী বিক্রি করছিলেন। গণেশ শর্মা যখন বিক্রেতাদের আরতির সময় ওই সামগ্রী বিক্রি করতে বাধা দেন, তখন থেকেই বিবাদের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যেই তা সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। আরতির মতো একটি পবিত্র মুহূর্তে সেখানে থাকা অসংখ্য নারী ও শিশু আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা: ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মহাকাল থানা উভয় পক্ষকেই দায়ী করে পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে।
-
গণেশ শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে মমতা পারমার ও শিপ্রা মারাঠাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
-
অন্যদিকে, উমা যাদবের অভিযোগের ভিত্তিতে গণেশ শর্মা, বিকাশ এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও পালটা মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
পুলিশি তৎপরতা ও নিরাপত্তা: ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমানসে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ এমন ধর্মীয় স্থানে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। ঘটনার পর রামঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আরতির সময় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষা ও ভক্তদের সুরক্ষার বিষয়টি এখন পুলিশ প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।