পিইপি (PPP) মডেলে বদলাবে দিল্লির চেহারা! ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার

দিল্লির ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুন করে সাজাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিল কেজরিওয়াল সরকার। রাজধানীর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নে এবার বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি (PPP) মডেল চালু করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। ‘আমাদের स्मारक, আমাদের গৌরব’ অভিযানের আওতায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন তিনি।

কী এই নতুন পরিকল্পনা? মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে দিল্লির ঐতিহাসিক ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর দায়িত্ব নিতে পারবেন যে কেউ। এই উদ্যোগের দুটি প্রধান স্তম্ভ হলো:

  • দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী স্মারক অভিগ্রহণ যোজনা: এই প্রকল্পের অধীনে সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও (NGO), ট্রাস্ট এমনকি সাধারণ নাগরিকরাও সরকারি স্মৃতিস্তম্ভ দত্তক নিতে পারবেন। দত্তক গ্রহণকারীরা ‘স্মারক মিত্র’ হিসেবে পরিচিত হবেন।

  • দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী উত্তরাধিকার নবউত্থান যোজনা: এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে স্থাপনাগুলোর মূল সংরক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সংস্কারের জন্য ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

‘স্মারক মিত্র’ হওয়ার শর্তাবলী:

  • ৫ বছরের চুক্তিনামা: সরকারের সঙ্গে স্মারক মিত্রদের ৫ বছরের একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি (MoU) করতে হবে।

  • খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ: দত্তক নেওয়া স্থাপনাগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা (লাইট অ্যান্ড সাউন্ড) এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা তৈরির খরচ বহন করবেন সংশ্লিষ্ট ‘স্মারক মিত্র’।

  • স্বচ্ছতা: কোনো স্থাপনা থেকে আয় হলে সেই টাকা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের সুযোগ নেই; সম্পূর্ণ অর্থ ওই স্মৃতিস্তম্ভের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণেই ব্যয় করতে হবে।

  • আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (EOI) জমা দিতে হবে এবং সেই সঙ্গে স্থাপনটির উন্নয়ন নিয়ে একটি বিস্তারিত রূপরেখা (Vision Document) দিতে হবে।

কেন এই উদ্যোগ? বর্তমানে দিল্লির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে ৭৫টি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এগুলো জৌলুস হারাচ্ছিল। সরকারের দাবি, এই মডেল বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সরকারি কোষাগারে সাশ্রয় হবে (প্রতি স্থাপনায় বছরে প্রায় ৪.৫ লাখ টাকা), অন্যদিকে পর্যটকদের জন্য দিল্লি হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *