২৫০টি মাদ্রাসায় তালা! ‘উগ্রবাদী পাঠ্যক্রম’ রুখতে কড়া পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির

উত্তরাখণ্ডের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনল মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির সরকার। রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে আধুনিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে সরকার ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে সরকারি অনুমোদিত পাঠ্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মীয় বা উগ্রবাদী পাঠ্যক্রম পড়ানো যাবে না। ইতিমধ্যে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করার অভিযোগে রাজ্যের ২৫০টিরও বেশি ‘অবৈধ’ মাদ্রাসা সিল করে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের কড়া বার্তা: ‘সরকার যা বলবে, তাই পড়াতে হবে’ মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে আধুনিক বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের অভিযোগ, রাজ্যের বহু মাদ্রাসা সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছিল এবং সেখানে আধুনিক শিক্ষার পরিবর্তে কেবল ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে এই মাদ্রাসাগুলি উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সেই কারণেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

সিদ্ধান্তের মূল দিকগুলো:

  • নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের ওপর কোপ: যে সমস্ত মাদ্রাসা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যে ২৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

  • সিলেবাসে বদল: বৈধ মাদ্রাসাগুলিকেও এখন থেকে সরকারের নির্ধারিত ও অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে।

  • উগ্রবাদ রুখতে তৎপরতা: কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বিতর্কিত বা উগ্রবাদী পাঠ্যক্রম পড়াতে থাকে, তবে অবিলম্বে তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত সরকারের এই পদক্ষেপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের উপযোগী করে তুলবে। অন্যদিকে, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ এবং কিছু মাদ্রাসা শিক্ষক এই সিদ্ধান্তকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ব্যবস্থা এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপন্ন হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একদিকে যেমন অভিভাবক মহলে আধুনিক শিক্ষার আকাঙ্ক্ষা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। প্রশাসনিক নজরদারিতে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা আগামী দিনে কোন পথে চলে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *