বইমেলা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে! কলকাতা বইমেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য শমীক ভট্টাচার্যের

কলকাতা বইমেলা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের আবহে বইমেলার পরিচালনা ও কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশার মধ্যেই মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।

কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?

মহাজাতি সদনে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেন যে, কলকাতা বইমেলা কেবল একটি মেলা নয়, এটি ভারতের মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত। তবে মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো দীর্ঘকাল ধরে রয়েছে, তা নিয়েও তিনি সরব হয়েছেন।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বইমেলা সংগঠিত করতে গেলে কিছু ক্ষোভ বা প্রতিবাদ থাকা স্বাভাবিক। অনেক প্রকাশকই স্টল না পাওয়ার অভিযোগ করেন। তবে এই ব্যবস্থার মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক অস্পৃশ্যতা কাজ করছে। কাউকে অন্য মতাদর্শের বলে এড়িয়ে যাওয়া বা অস্পৃশ্য মনে করা মোটেই ঠিক নয়।”

‘সরকার বনাম দল’ বিতর্ক

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে যে সরকারগুলি চলেছে, তাদের বিরুদ্ধে একপেশে শাসনের অভিযোগ তুলে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এতদিন যা চলেছে তা একটি নির্দিষ্ট দলের সরকার ছিল, পশ্চিমবঙ্গের সরকার হয়ে উঠতে পারেনি। আমাদের দলের এমন কোনো এজেন্ডা নেই। মতপ্রকাশের অধিকার সকলের আছে এবং আমরা অস্পৃশ্যতায় বিশ্বাসী নই।”

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

পর্যবেক্ষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনে সরকারি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে বিজেপি কোনো প্রকার ‘রাজনৈতিক বৈষম্য’ বরদাস্ত করতে নারাজ। অতীতে সাহিত্য জগতে যারা ব্রাত্য বা অস্পৃশ্য হয়ে ছিলেন, তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়ার বার্তাই যেন দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

বইমেলা নিয়ে কোনো বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা সরাসরি না বললেও, শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, বইমেলা পরিচালনা কমিটি বা সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এর কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *