মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ: দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখল সুপ্রিম কোর্টের টাস্ক ফোর্স

ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যয় এবং ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যার ঘটনা রুখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের ক্যাম্পাসগুলিতে মানসিক চাপের নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ (NTF) গত প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে সরেজমিনে তদন্ত চালিয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত ১০টি রাজ্যের ৩০টি নামী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরেছে এই বিশেষ দল।
তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য আইআইটি (IIT), মেডিকেল কলেজ, আইন স্কুল ও নার্সিং কলেজসহ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ওয়ার্ডেন এবং কাউন্সিলরদের সাথে ২৫টিরও বেশি বৈঠক করেছে টাস্ক ফোর্স। এই তদন্তের পর এনটিএফ-এর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র:
-
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই মানসিক স্বাস্থ্য সেলগুলি শুধুমাত্র ‘কাগজে-কলমে’ সীমাবদ্ধ।
-
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শোনার মতো স্বচ্ছ বা কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।
-
অনেক ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জাতি ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রকট।
টাস্ক ফোর্সের বিশেষ লক্ষ্য ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এই টাস্ক ফোর্সের কাজের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের (SC/OBC) পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য, নারীর নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসে আত্মহত্যার লিঙ্গগত দিকগুলো নিয়ে গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করছে এনটিএফ। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আইন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা চালাচ্ছে দলটি।
শিক্ষার্থীরা কীভাবে উপকৃত হবে? সুপ্রিম কোর্টের এই সক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন আশার আলো। টাস্ক ফোর্সের এই নিরন্তর প্রচেষ্টার ফলে যা আশা করা হচ্ছে: ১. কার্যকরী মানসিক স্বাস্থ্য সেবা: নামমাত্র নয়, বরং প্রতিটি ক্যাম্পাসে অভিজ্ঞ কাউন্সিলর ও কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্য সেলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হবে। ২. অভিযোগ নিষ্পত্তি: শিক্ষার্থীদের সমস্যার দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে উঠবে। ৩. বৈষম্যহীন পরিবেশ: ক্যাম্পাসে জাতি বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য রোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। ৪. আত্মহত্যার প্রবণতা হ্রাস: মানসিক চাপের কারণগুলো চিহ্নিত করে সময়মতো হস্তক্ষেপ করার ফলে আত্মহত্যার মতো চরম পথ থেকে অনেক শিক্ষার্থীকে বাঁচানো সম্ভব হবে।
শিক্ষাঙ্গনকে আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও সুরক্ষিত করে তোলাই এই জাতীয় টাস্ক ফোর্সের মূল লক্ষ্য। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া নজরদারিতে আগামী দিনে ক্যাম্পাসগুলোর প্রশাসনিক মডেলে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।