ভারতের ‘চিপ’ বিপ্লব: সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০-এর জন্য সবুজ সংকেত দিল অর্থ মন্ত্রণালয়

ভারতকে বিশ্বের অন্যতম সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল কেন্দ্র। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় বিভাগ ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন (ISM) ২.০’-এর জন্য ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সূত্রের খবর, চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এই প্রস্তাব এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কাছে পেশ করা হবে।
মিশন ১.০-এর চেয়ে বড় লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে (ISM 1.0) সরকার ৭৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। সেই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই দ্বিতীয় পর্যায়ে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের বাজেটেই এই প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতা বাড়াতেই এই বড়সড় পদক্ষেপ।
কী কী থাকছে সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০-তে? কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আগেই জানিয়েছেন, এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো—
-
চিপ ডিজাইন: দেশীয় প্রযুক্তিতে চিপ ডিজাইন ও তৈরির ওপর জোর দেওয়া।
-
উৎপাদন বৃদ্ধি: উন্নত মানের সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণের পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
-
ভ্যালু চেইন: সরঞ্জামের কাঁচামাল, বিশেষ কেমিক্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস এবং হাই-পারফরম্যান্স উপকরণের জোগান নিশ্চিত করা।
ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের ১২টি বড় প্রকল্পকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে একটি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট, দুটি কম্পাউন্ড সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট এবং নয়টি প্যাকেজিং ইউনিট।
কাদের জন্য সুযোগ? এই মিশন বাস্তবায়নের ফলে ভারতের কেমিক্যাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস কোম্পানিগুলোর জন্য বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে Linde India, Navin Fluorine International এবং Gujarat Fluorochemicals-এর মতো সংস্থাগুলি তাদের বিশেষায়িত পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে এই শিল্প বিপ্লবে বড় ভূমিকা রাখতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের এই বিকাশ কেবল প্রযুক্তি ক্ষেত্রেই নয়, ভারতের অর্থনীতিকেও বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।