জাতীয় ই-২০ নীতিতে বড় স্বস্তি! ইথানল বরাদ্দ নিয়ে বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

ইথানল সরবরাহ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের আইনি জট ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার বড়সড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা ও জাতীয় ই-২০ নীতিকে বহাল রেখে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য পূর্বনির্ধারিত ইথানল বরাদ্দে কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।
হাইকোর্টের আদেশে স্থগিতাদেশ মূলত, ভিনাপ ডিস্টিলারিজ অ্যান্ড সুগার প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি ডিস্টিলারির ইথানল কোটা পুনর্বিবেচনা ও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারত পেট্রোলিয়াম (বিপিসিএল) সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। আজ বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ কর্ণাটক হাইকোর্টের ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি জোরালো যুক্তি দেন যে, যদি মাত্র একটি কোম্পানির আবেদনের ভিত্তিতে বরাদ্দ পরিবর্তন করা হয়, তবে অন্যান্য সরবরাহকারীরাও আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এর ফলে পুরো জাতীয় ইথানল সরবরাহ নীতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দেশের জ্বালানি নীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের অবস্থান ও পরিসংখ্যান কেন্দ্র সরকার শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩৭৮টি কোম্পানিকে ১,০৫০ কোটি লিটার ইথানল সরবরাহের কোটা ইতিমধ্যেই বণ্টন করা হয়েছে। এই বিশাল প্রক্রিয়ার মাঝে হুট করে কোনো রদবদল করা প্রশাসনিক ও নীতিগতভাবে জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে আপাতত ইথানল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এবং সরকারের জাতীয় ই-২০ নীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ প্রশস্ত হলো।