নেশার কবলে ভবিষ্যৎ! গাঁজা-হেরোইনের আখড়া ভাঙতে রাস্তায় নামলেন গ্রামের মহিলারা

শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বে প্রকাশ্যে চলছে মদ, গাঁজা ও হেরোইনের নেশা! তীর্থস্থান ঠাকুরনগরের অদূরে গাইঘাটা থানার গাতি গ্রামের এই ভয়াবহ চিত্র এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অবশেষে নিজের হাতেই প্রতিরোধ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভয়াবহ পরিস্থিতি: ঠাকুরনগর-চাঁদপাড়া সড়কের পাশে ইছাপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গাতি গ্রামে অবস্থিত অনন্তরাম প্রাথমিক বিদ্যালয়। এটি ওই এলাকার একমাত্র সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গ্রামের শ’খানেক কচিকাঁচা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই স্কুলে যায়। অভিযোগ, স্কুলের পাশেই বাঁশবাগানের ছায়ায় প্রতিদিন একদল যুবক প্রকাশ্যে নেশার আসর বসায়। মদ্যপান বা গাঁজার পাশাপাশি, কাশির ওষুধকেও মাদক হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে ওই যুবকদের। কাছেই গ্রামীণ হাসপাতাল থাকলেও, এই অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে প্রশাসনের কোনো সক্রিয়তা চোখে পড়ছে না বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ।

প্রতিরোধে গ্রামবাসীরা: সোমবার সকালে যখন খুদে পড়ুয়ারা স্কুলে যাচ্ছিল, সেই সময় ফের নেশার আসর বসতে দেখে আর চুপ থাকতে পারেননি স্থানীয় মহিলারা। দলবদ্ধভাবে তাঁরা লাঠিসোঁটা নিয়ে নেশাখোরদের তাড়া করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যও এই আন্দোলনে বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সমাজবিরোধী এই চক্রকে রুখতে গ্রামে একটি ‘প্রতিরোধ বাহিনী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

পুলিশি সাফাই: অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় গাইঘাটা থানার পুলিশের দাবি, ওই এলাকায় মাঝেমাঝেই তল্লাশি অভিযান চালানো হয় এবং আগেও কয়েকজনকে নেশা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ গ্রামবাসী। তাঁদের প্রশ্ন, যদি অভিযান চলাই হবে, তবে স্কুলের নাকের ডগায় এমন আসর দিনের পর দিন কীভাবে চলছে?

কচি-কাঁচাদের পড়াশোনার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে গ্রামবাসীদের এই লড়াই এখন ঠাকুরনগর এলাকায় আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *