হোটেলের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানোর ফাঁদ! পুরীর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে ৪৬টি ভুয়ো ওয়েবসাইট বন্ধ পুলিশের

আগামী ১৬ জুলাই পুরীর রথযাত্রা উপলক্ষে সৈকত শহরে লক্ষাধিক ভক্তের ভিড় জমবে। এই উৎসবের মরসুমকে কেন্দ্র করেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক বিশাল অনলাইন প্রতারণা চক্র। পুরীর নামী হোটেলের ছদ্মবেশে তৈরি ভুয়ো ওয়েবসাইটে বুকিংয়ের নামে পর্যটকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ওড়িশা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই ৪৬টি প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে।
প্রতারণার ধরণ: প্রতারকরা সাধারণত আসল হোটেলগুলোর ওয়েবসাইটের ক্লোন তৈরি করে বা হুবহু দেখতে এমন সব পোর্টাল বানায়, যা অনলাইন সার্চ রেজাল্টে সবার উপরে চলে আসে। এরপর ভিআইপি দর্শন এবং আকর্ষণীয় রুম ভাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে অনলাইনে অগ্রিম টাকা দাবি করা হয়। হোটেলে পৌঁছানোর পর পর্যটকরা বুঝতে পারেন, তাঁদের নামে আদতে কোনো বুকিংই করা হয়নি।
পুলিশের সতর্কবার্তা: গত এক বছরে প্রায় ৩০ জন পর্যটক এই চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন বলে ক্রাইম ব্রাঞ্চের সূত্রে জানা গেছে। রাজস্থানের এক পর্যটক একইভাবে প্রতারিত হওয়ার পর পুরী থানায় অভিযোগ জানালে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে সাইবার বিশেষজ্ঞরা টানা নজরদারি চালিয়ে ৪৬টি ওয়েবসাইট সনাক্ত করে সেগুলো অপসারণ করেছেন।
পর্যটকদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ:
-
অফিসিয়াল সাইট চিনুন: সবসময় হোটেলের নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা পরিচিত ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম থেকে বুকিং করুন।
-
হুবহু নকল থেকে সাবধান: সার্চ রেজাল্টে আসা সাইটের ইউআরএল (URL) ভালো করে চেক করুন। অনেক সময় ডোমেন নামের সামান্য বানান পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতারকরা আসল সাইটের ভান করে।
-
অগ্রিম পেমেন্টে সতর্ক: অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট থেকে বুকিং করার সময় বড় অংকের অগ্রিম টাকা দেবেন না। কোনো সন্দেহ হলে সেই হোটেলের সরাসরি দেওয়া নম্বরে ফোন করে বুকিং স্ট্যাটাস যাচাই করে নিন।
-
অফিসিয়াল পোর্টালে ভরসা: মন্দির প্রশাসনের (SJTA) অফিসিয়াল পোর্টাল ছাড়া অন্য কোনো অজানা লিঙ্ক থেকে গেস্টহাউস বুকিং করবেন না।
ওড়িশা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রতারকদের রুখতে দিন-রাত সাইবার নজরদারি চলছে। তাই রথযাত্রার আনন্দ যাতে মাটি না হয়, সে বিষয়ে পর্যটকদের বিশেষ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।