‘আইনের ঊর্ধ্বে নই!’ শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরই সুর বদলে ফেললেন হুমায়ুন কবীর

সম্প্রতি বিজেপিকে লক্ষ্য করে ‘সাটা ভাঙা’র মতো বিতর্কিত ও প্ররোচনামূলক মন্তব্য করে শিরোনামে এসেছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি হুঁশিয়ারির পর তাঁর গলায় ভিন্ন সুর। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিধায়কের উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিষয়ে সরকার আর চুপ থাকবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বলেন, “এনাফ ইজ এনাফ (অনেক হয়েছে)। এবার সবক শেখানোর সময় এসেছে। নওদার বিধায়ককে বুঝতে হবে, আইনের শাসন কাকে বলে।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানায় বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

হুমায়ুনের সুরবদল: মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর বিধানসভার বাইরে হুমাযুন কবীর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুর নরম করেন। তিনি দাবি করেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ নেই। আইন আইনের পথেই চলবে। আমি আইনের ঊর্ধ্বে নই, আইনের প্রতি আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে।”

পুরানো ইতিহাস টেনে আত্মপক্ষ সমর্থন: নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, “৩৪ বছরের সিপিএম শাসনে আমার নামে ২৭টি মামলা হয়েছিল, কিন্তু কোনোটিতেই আমি অপরাধী প্রমাণিত হইনি। তৃণমূল জমানাতেও ৭টি মামলা হয়েছে, সবক্ষেত্রেই ক্লিনচিট পেয়েছি। বর্তমান প্রশাসনও আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না।”

প্রেক্ষাপট: গত ২৬ জুন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে এক জনসভায় হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, “মাথা যেদিন গরম হয়ে যায়, সেদিন এসপি বা চিফ মিনিস্টার—কাউকেই চিনি না।” এই ধরনের মন্তব্যকে উস্কানিমূলক ও আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে দেখছে সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ এবং আইনি চাপের মুখে পড়ার পরেই নিজের বিতর্কিত ‘সাটা ভাঙা’র মন্তব্য থেকে কার্যত পিছু হঠলেন নওদার এই বিতর্কিত বিধায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *