অনিশ্চয়তার দোলাচলে ট্রাম্পের শান্তি বৈঠক! দোহায় কি সত্যিই বসবে আমেরিকা-ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আবারও আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী মঙ্গলবার, ৩০ জুন কাতারের দোহায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি ও ইরানের অবস্থান: সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প সরাসরি দাবি করেন, “ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছিল। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার দোহায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।”

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “এই সপ্তাহে কাতারে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা ইরানের নেই।” ফলে, দোহায় আদৌ কোনো বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।

কেন এই বৈঠকের গুরুত্ব? চলতি বছরের জুন মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সমঝোতার পরেও গত কয়েকদিনে পারস্য উপসাগরে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সামরিক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি আলোচনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অনিশ্চয়তার কারণ: বৈঠকটি নিয়ে এখন দুটি প্রধান প্রশ্ন সামনে এসেছে:

  • অস্পষ্ট প্রতিনিধি দল: ট্রাম্প বৈঠকের কথা ঘোষণা করলেও, আমেরিকার পক্ষ থেকে কারা প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

  • পাল্টাপাল্টি মন্তব্য: একদিকে ট্রাম্পের দাবি ইরান আলোচনার জন্য আগ্রহী, অন্যদিকে ইরানের দাবি কোনো প্রযুক্তিগত আলোচনার দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং তার পরবর্তী উত্তেজনার পর দুই দেশই পরোক্ষভাবে কাতারের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ বজায় রাখছে। এই বৈঠকটি বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমাতে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই বিপরীতমুখী অবস্থান শান্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মঙ্গলবারের দোহা বৈঠকের দিকে—এটি কি আলোচনার নতুন পথ খুলে দেবে, নাকি উত্তেজনা আরও বাড়বে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *