বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল! তৃণমূলের অন্দরের লড়াইয়ে মুখ খুলতেই কটাক্ষের মুখে শোভনদেব

বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত ফের প্রকাশ্যে। বিল নিয়ে আলোচনার সময় প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের অন্দরেই শুরু হয় প্রবল গোলযোগ। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির চাপে বক্তব্য না রেখেই চুপ করে যেতে বাধ্য হন তিনি।
ঠিক কী ঘটেছিল বিধানসভায়? সূত্র মারফত জানা গেছে, বিলের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের তালিকা অনুযায়ী নাম ছিল কালীঘাট-পন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের। আলোচনার শুরুতে তিনি একটি ‘পয়েন্ট অফ অর্ডার’ তোলার অনুমতি চান। এরপর তিনি বলতে শুরু করেন, ‘‘আমরা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের…’’। এইটুকু বলার পরই শাসক বেঞ্চ থেকে তীব্র কটাক্ষ ধেয়ে আসে। রাজ্যের এক মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘নিজেদের ঘরের ঝামেলা ঘরেই মেটান।’’ শাসক দলের অন্য বিধায়কেরাও এই মন্তব্যে তাল মেলান।
স্তব্ধ শোভনদেব: নিজের দলেরই সদস্যদের এই রূঢ় আচরণের মুখে পড়ে অস্বস্তিতে পড়েন বর্ষীয়ান এই বিধায়ক। দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তাঁকে কথা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন বলেও খবর। কিন্তু সেই অনুরোধে সাড়া দেননি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। রীতিমতো অপমানিত বোধ করে তিনি আর কোনও বক্তব্যই রাখেননি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দুই শিবিরের টানাপোড়েন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে বিধানসভার মতো সাংবিধানিক উচ্চকক্ষে দলেরই প্রবীণ বিধায়ককে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের শৃঙ্খলার বদলে বিধানসভার ফ্লোরে এভাবে ‘ঘরের ঝামেলা’ প্রকাশ্যে চলে আসায় বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দেওয়া হলো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।
প্রতিবেদনটিতে বিধানসভার উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিবরণ এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের চুপ করে যাওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।