করাচি বিস্ফোরণে ভারতের যোগ? পাকিস্তানকে আয়না দেখিয়ে কড়া জবাব সাউথ ব্লকের!

করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্স বাহিনীর সদর দপ্তরে হওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার দায় ভারতের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল ইসলামাবাদ। তবে পাকিস্তানের এই ‘আজগুবি’ ও ‘ভিত্তিহীন’ দাবিকে একবাক্যে খারিজ করে দিল ভারত। সাউথ ব্লকের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে পাকিস্তান যেন নিজেদের ঘরে চলা জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করার দিকে মন দেয়।
পাকিস্তানের গালে সপাটে জবাব ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল রবিবার অত্যন্ত ঝাঁঝালো ভাষায় এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভারত সরকার এই ধরনের দাবিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।” পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “অন্যদের দিকে আঙুল না তুলে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অন্তরে উঁকি মারা। তাদের ভূখণ্ডে যে জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো রমরমিয়ে চলছে, আগে সেগুলোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক তারা।”
সন্ত্রাসবাদকে ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’ করা বন্ধ করুক পাকিস্তান বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে নিজেদের দেশের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার করার যে প্রবণতা পাকিস্তানের রয়েছে, তা থেকে তাদের বেরিয়ে আসা উচিত।” ভারতের এই কড়া কূটনৈতিক জবাব কার্যত বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের ব্যর্থতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল।
করাচির বিস্ফোরণের নেপথ্যে কী? শনিবার সন্ধ্যায় করাচির গুলিস্থান-ই-জোহর এলাকায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের ‘ভিট্টাই উইং’ দপ্তরে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। দেড় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস গুলির লড়াইয়ে ৪ জন রেঞ্জার্স আধিকারিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই রক্তক্ষয়ী হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপি-র সহযোগী গোষ্ঠী ‘জামাত-উল-আহরার’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করাচি বিমানবন্দরের কাছে চিনা ইঞ্জিনিয়ারদের হত্যার পর এটাই করাচির বুকে সবচেয়ে বড় নাশকতা। একদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা, অন্যদিকে দেশের ভেতরে টিটিপি-র দাপট—সব মিলিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা শনিবারের এই ঘটনায় আরও একবার প্রকাশ পেয়েছে। নিজেদের এই চরম ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান যে ভারতের দিকে আঙুল তোলার পুরনো খেলা খেলছিল, তা ভারতের এই কড়া বার্তায় স্পষ্ট হয়ে গেল।