“মৃত্যুভয় নেই, এই বছরই ফিরছি!” নির্বাসন থেকে হুঙ্কার শেখ হাসিনার, তোলপাড় আন্তর্জাতিক রাজনীতি

নির্বাসন এবং মাথার ওপর ঝুলন্ত মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ—এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের অবস্থানে অবিচল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এনডিটিভি-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ ইমেল সাক্ষাৎকারে হাসিনা স্পষ্ট জানালেন, সমস্ত বাধা ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ২০২৬ সালের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন।
“মৃত্যুকে ভয় পাই না” নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া আদালতের রায়কে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ ও ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করার জন্যই বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।” নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে পুরো পরিবারকে হারানোর পর থেকে বহুবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই মৃত্যুদণ্ডের সাজা বা মৃত্যুভয় তাঁকে তাঁর লক্ষ্যে থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্তা বাংলাদেশে বর্তমানে তাঁর দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা দিতে নারাজ হাসিনা। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগজের সংগঠন নয়, এটি বাংলার মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত। ৭৭ বছরের ইতিহাসে বহুবার আক্রমণের মুখে পড়লেও প্রতিবারই দলটি ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে।” বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে এবং অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে গিয়েছে।
রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই সাক্ষাৎকারে হাসিনা স্পষ্ট করেন যে, তাঁর দেশে ফেরা কেবল ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরিয়ে আনার লড়াই। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁর এই সাহসী ঘোষণা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের সময় বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও দলের কর্মীরা যে পিছু হটেনি, তা হাসিনার এই হুঙ্কারে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
এখন দেখার বিষয়, নির্বাসন থেকে তাঁর এই দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক মোড় কোন দিকে যায়।