অস্ত্র ছাড়বে না হিজবুল্লা! শান্তি চুক্তির পরেই বড় আশঙ্কার মুখে ইজরায়েল-লেবানন?

দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি। হোয়াইট হাউসে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১৪ পয়েন্টের এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থায়িত্ব পাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংশয়। এর মূল কারণ—হিজবুল্লা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই চুক্তির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা কোনোভাবেই অস্ত্র ত্যাগ করছে না।

চুক্তির মূল দিক:

  • বাহিনী প্রত্যাহার: ইজরায়েল লেবানন থেকে নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • সীমান্ত যোগাযোগ: ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার জানিয়েছেন, দুই দেশের রাজধানীর মধ্যে বাধাহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে লেবাননের সামরিক বাহিনীর ওপর।

  • সার্বভৌমত্ব: লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামদে মোয়াওয়াদ এই চুক্তিকে দেশটির সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে সাধারণ মানুষ ফের নিজেদের কৃষি জমিতে ফিরে যেতে পারবেন।

  • মার্কিন সহায়তা: শান্তি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে আমেরিকা একটি ‘মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ’ গঠন করবে। সেই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের মানবিক সহায়তার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেছেন মার্কো রুবিও।

সংশয়ের কেন্দ্রে হিজবুল্লা: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে লেবাননের প্রায় ৪ হাজার সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই চুক্তিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও, হিজবুল্লার অবস্থানই এখন সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা চুক্তির বাইরে থাকায় ভবিষ্যতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরেও অস্বস্তি: অন্যদিকে, এই শান্তি আলোচনার মধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসে ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পক্ষে ৫০-৪৮ ভোটে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। যদিও এটি সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কার্যকর প্রভাব ফেলবে না, তবুও মার্কিন সংসদীয় ইতিহাসে এই ভোট একটি বড় রেকর্ড হিসেবে থেকে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *