তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধাক্কা: ডিএমকে জোট ছাড়ল এমডিএমকে, কাঠগড়ায় স্ট্যালিনের দল

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ নয় বছরের বন্ধুত্বের পরিসমাপ্তি ঘটল। ডিএমকে-নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল জোট (SPA) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করল এমডিএমকে (MDMK)। চেন্নাইতে সাধারণ সম্পাদক ভাইকোর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক দলীয় সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

জোট ভাঙার কারণ কী? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই ভাঙন আসন্ন ছিল। নির্বাচনে অভিনেতা বিজয়-এর দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (TVK) একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর ডিএমকে জোটের শোচনীয় পরাজয় ঘটে। এমডিএমকে-র অভিযোগ, জোটের অন্দরে তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়কে মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এছাড়া জোটের আদর্শগত বিচ্যুতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি।

ডিএমকে-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দলীয় প্রস্তাবে এমডিএমকে অভিযোগ করেছে, জোটের নেতারা আদর্শের সঙ্গে আপস করেছেন। তাদের দাবি:

  • এআইএডিএমকে-কে সাহায্য: মাত্র ৪৭টি আসন পাওয়া সত্ত্বেও এআইএডিএমকে-কে ক্ষমতায় বসাতে জোটের অন্দরে পর্দার আড়ালে ষড়যন্ত্র হয়েছিল।

  • সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত: এমডিএমকে-র দাবি, যে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির দোহাই দিয়ে এই জোট তৈরি হয়েছিল, তা এখন অর্থহীন। পরোক্ষভাবে এআইএডিএমকে এবং হিন্দুত্ববাদী শক্তিকে সাহায্য করার অভিযোগ তোলা হয়েছে ডিএমকে জোটের বিরুদ্ধে।

আদর্শের লড়াইয়ে এমডিএমকে ভাইকোর কথায়, “আমরা সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির বিস্তার রোধ করতেই ডিএমকে জোটে যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ক্ষুণ্ণ হয়েছে।” ৩২ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এমডিএমকে এখন নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা পুনরুদ্ধারে জোটের শৃঙ্খল ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তামিলনাড়ুর রাজনীতির এই অস্থিরতা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। এই জোট ত্যাগের ফলে ডিএমকে-র সাংগঠনিক শক্তি বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *