অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে জালিয়াতি! দিল্লি-এনসিআরে ইডির বড় অভিযানে জব্দ গুরুত্বপূর্ণ নথি

ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের মামলায় এবার কোণঠাসা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সন্দীপ সিং। এই প্রতারণাকাণ্ডের তদন্তে নেমে দিল্লি, নয়ডা এবং গাজিয়াবাদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি অভিযান চালালো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে সূত্রের খবর, মেসার্স শ্রেষ্ঠা প্রপবিল্ড প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক সন্দীপ সিং ‘সেবা সুরক্ষা সহকারি আবাস সমিতি’-র সদস্যদের সঙ্গে বড়সড় প্রতারণা করেছেন। অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ কর্মকর্তাদের জন্য ২৬৪টি ফ্ল্যাট তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী, সমিতির জমির অর্ধেক অংশের বিনিময়ে সদস্যদের এই ফ্ল্যাটগুলি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়ের কাজ সময়ে তো দূর, বরং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ৪১,৫৪৪ বর্গমিটার জমির অর্ধেক অংশ তিনি তৃতীয় পক্ষের কাছে গোপনে বিক্রি করে দেন।
প্রতারণার কৌশল তদন্তে জানা গেছে, সদস্যদের ফ্ল্যাট তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিলম্বিত হলে মাসিক ভাড়া দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছিলেন সন্দীপ সিং। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি অভিযুক্ত বিল্ডার। উল্টে প্রকল্পের অর্থ তছরুপ করে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দায়ের করা তিনটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে পিএমএলএ (PMLA) আইনে তদন্ত শুরু করে ইডির লখনউ শাখা।
ইডি-র জালে নথি শুক্রবার ইডির অভিযানে সংস্থাটির আর্থিক লেনদেনের হিসেব, সম্পত্তির খতিয়ান এবং তহবিলের উৎস সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইডি আধিকারিকরা এখন খতিয়ে দেখছেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং এই চক্রে আর কারা জড়িত রয়েছে।
রিয়েল এস্টেট খাতে এই ধরণের জালিয়াতি এবং অবসরে যাওয়া জওয়ানদের কষ্টে উপার্জিত অর্থ লুঠের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইডির এই অভিযানে প্রতারিত বিনিয়োগকারীরা ন্যায়বিচারের আশা দেখছেন।