গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধের চেষ্টা? PoK-এ আন্দোলন দমাতে সীমান্তে ট্রাক আটকে রাখল পাকিস্তান!

আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি, অতিরিক্ত কর এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ফুঁসছে পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর (PoK)। ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’-র নেতৃত্বে চলমান এই গণ-আন্দোলন দমন করতে এবার পাকিস্তান সরকার এক চরম ও অমানবিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ। সূত্র অনুযায়ী, আন্দোলনরত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও জরুরি পণ্য সরবরাহকারী শত শত ট্রাক সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়েছে।
অবরুদ্ধ PoK: গত সাত দিন ধরে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো সীমান্তের ওপারে আটকে থাকায় স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র আকাল দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জনগণের গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার জন্য পাকিস্তান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই ‘খাদ্য অবরোধ’ তৈরি করেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন এবং দৈনন্দিন জীবনের সামগ্রী পাওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও পাকিস্তান প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: খাদ্য সংকটের পাশাপাশি PoK-এর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চলছে টানাপোড়েন। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য, যেখানে তিনি PoK-এর রাওয়ালকোট ও মিরপুরের বাসিন্দাদের ‘আসল কাশ্মীরি’ নয় বলে কটাক্ষ করেছিলেন, তা নিয়ে PoK-এর ‘প্রধানমন্ত্রী’ ফয়সাল মুমতাজ রাঠোর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। রাঠোর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাদের পরিচয়ের জন্য ইসলামাবাদের অনুমোদনের বা সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঢেউ: সীমান্তে ট্রাক আটকে থাকার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। যদিও ভিডিওগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইসলামাবাদ পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে PoK-এর পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনিক অবহেলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার এই কৌশল আন্দোলনকে দমানোর বদলে সরকারের প্রতি জনরোষ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।