গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতির মেলবন্ধন! তাজিয়াকে বরণ করে নিলেন মন্দিরের পুরোহিত, ভাইরাল আবেগঘন মুহূর্ত

দেশজুড়ে যখন নানা ধরণের বিভেদকামী খবরের ভিড়, ঠিক সেই সময়েই মধ্যপ্রদেশের দতিয়া থেকে উঠে এল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ছবি। দতিয়ার ভান্ডার শহরের ঐতিহাসিক চতুরভুজ নারায়ণ মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে ৩৭টি তাজিয়ার ‘সালামি’ দেওয়ার দৃশ্য উপস্থিত হাজার হাজার মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে? শুক্রবার রাতে যখন মুহরমের তাজিয়া মিছিল তার ঐতিহ্যবাহী পথ ধরে এগোচ্ছিল, তখন শহরের ৩৭টি তাজিয়া এসে থামে চতুরভুজ নারায়ণ মন্দিরের সামনে। প্রথা অনুযায়ী, তাজিয়াগুলো থেমে ভগবানকে সম্মান বা ‘সালামি’ জানায়। পাল্টা হিসেবে, মন্দিরের পুরোহিতরাও কোনো কার্পণ্য না করে প্রতিটি তাজিয়ায় ফুল ও মালা চড়িয়ে মিছিলকে সাদরে বরণ করে নেন। ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই ঐতিহ্য আজও একইভাবে পালিত হয়ে আসছে, যা হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এক গভীর বন্ধন তৈরি করেছে।
মন্দিরের সঙ্গে মুসলিম পরিবারের ঐতিহাসিক সংযোগ: এই মন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক গল্প। স্থানীয়দের মতে, কয়েক দশক আগে শহরের সোন্তলাই পুকুর থেকে ভগবান চতুরভুজ নারায়ণের মূর্তিটি খুঁজে পেয়েছিলেন স্থানীয় এক মুসলিম পরিবার—হজারি পরিবার। তারাই এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জমিও দান করেছিলেন।
আগে নিয়ম ছিল, হজারি পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধর্মীয় মিছিল ওই পথ দিয়ে এগিয়ে যেত না। বর্তমানে পরিবারের একমাত্র বয়স্ক সদস্য অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী হলেও, শুক্রবার রাতে তাকে পালকিতে করে মন্দিরে আনা হয়। তার আশীর্বাদ নিয়েই তাজিয়া মিছিল এগিয়ে যায়।
সম্প্রীতির বার্তা: এই ঘটনাটি কেবল একটি ধর্মীয় প্রথা পালন নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ আজও একে অপরের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল হতে পারে। নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এই মিছিল এবং মন্দিরের সামনে পুরোহিতদের অভ্যর্থনা উপস্থিত সাধারণ মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করেছে। দতিয়ার এই ছবি আজও ভারতের ‘গঙ্গা-যমুনা’ সংস্কৃতির শিকড় যে কতটা গভীরে, তারই পরিচয় দেয়।