‘সাজানো তদন্ত, আসল দোষীরা আড়ালে!’ রাম মন্দির বিতর্ক নিয়ে যোগী সরকারকে তোপ বিরোধীদের

রাম মন্দিরের অনুদান তহবিলে কথিত তছরুপের ঘটনায় সরগরম উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। ঘটনার তদন্তে ৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার এবং সিট (SIT) গঠনের পর বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়েছে বিরোধী দলগুলো। একে ‘লঙ্কাকাণ্ড’ ও ‘মহা-ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়ে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়ালেন বিরোধী নেতারা।

অখিলেশের নিশানায় ‘দানভক্ত’: সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ঘটনাকে বিজেপির পতনের শুরু বলে মন্তব্য করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অখিলেশ লেখেন, “ঈশ্বরের ঐশ্বরিক শক্তি কাজ শুরু করেছে। বিজেপির অহংকারে তৈরি লঙ্কার সাম্রাজ্য এবার ধ্বংস হবে। ‘দানভক্তদের’ মুখোশ খসে পড়েছে, ঈশ্বরের অডিট থেকে বিজেপি গ্যাং রেহাই পাবে না।”

কংগ্রেসের দাবির পাহাড়: কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এই ঘটনার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে নিচুতলার কর্মীরা একা এত বড় দুর্নীতি করতে পারে না। এর পেছনে প্রভাবশালীদের যোগসাজশ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে মন্দির ট্রাস্ট ভেঙে নতুন করে তদন্তের দাবিও তুলেছে হাত শিবির।

বিজেপি বনাম বিরোধীদের বাগযুদ্ধ: বিরোধীদের দাবি, পুলিশ যে তদন্ত করছে তা সম্পূর্ণ ‘সাজানো’। বড় রাঘববোয়ালদের আড়াল করে কেবল চুনোপুঁটিদের ধরে দায় সারা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আইন আইনের পথেই চলছে এবং অপরাধী যেই হোক, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, রাম মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে এই ধরনের আর্থিক জালিয়াতি কীভাবে সম্ভব হলো?

তদন্তের গভীরে যতই যাওয়া হচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিস্ফোরক সব তথ্য। এই ঘটনা আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এক বড়সড় ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *