অযোধ্যা কাণ্ডে বিস্ফোরক প্রিয়ঙ্কা: দানের টাকা চুরিতে শুধু চোর নয়, দায় নিতে হবে কর্তাদেরও!

অযোধ্যা রাম মন্দিরের সংগৃহীত দানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। সাধারণ মানুষের আবেগ এবং বিশ্বাসকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা সেই তহবিলে চুরির ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ এবং ‘লজ্জাজনক’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী।

কী বললেন প্রিয়ঙ্কা? শনিবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র ওয়েনাড় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, “সারা দেশের কোটি কোটি মানুষ গভীর বিশ্বাস ও ভক্তি থেকে রাম মন্দিরের জন্য দান করেছিলেন। সেই পবিত্র দানের টাকা চুরি হওয়া চরম লজ্জার বিষয়।” কংগ্রেস সাংসদ শুধু চোরদের গ্রেফতারের দাবিতেই থেমে থাকেননি, বরং প্রশ্ন তুলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, কেবল চোর ধরলেই হবে না, সাধারণ মানুষের এই আবেগের টাকা নিরাপদ রাখার দায়িত্ব যাঁদের ছিল, তাঁদের প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে।

যোগীর রাজ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা: রাম মন্দির ট্রাস্টের দানের টাকা চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। মন্দির চুরির এই ঘটনায় ট্রাস্টি বোর্ডের একাংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারী দল সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আবেগে আঘাতের রাজনীতি: দেশব্যাপী যখন রাম মন্দির নির্মাণের জন্য তহবিল সংগ্রহের অভিযান চলেছিল, তখন সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ ছিল দেখার মতো। সেই গচ্ছিত অর্থ চুরি যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ একে প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন। একদিকে ৮ জন গ্রেফতারি এবং অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপ—সব মিলিয়ে রাম মন্দির ট্রাস্টের দানের টাকা নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে বড়সড় রাজনৈতিক মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *