প্রসূতি মৃত্যুর জের! জ্যাকসন ল্যাবরেটরিজের লাইসেন্স বাতিল, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নিয়মবহির্ভূতভাবে ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগে এবার জ্যাকসন ল্যাবরেটরিজের পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
পুরো ঘটনাটি কী? রাজস্থানের জে কে লোন হাসপাতাল এবং সরকারি মেডিকেল কলেজের সুপার স্পেশালিটি ইউনিটে গত মে মাসে সিজারের পর ৫ জন প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, ওই প্রসূতিদের যে অক্সিটসিন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, তাতে বড়সড় গোলমাল থাকতে পারে। এরপরই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO) এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলার।
কেন এই পদক্ষেপ? যৌথ পরিদর্শনের সময় জ্যাকসন ল্যাবরেটরিজের কারখানায় ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস’ (GMP) সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর খামতি ধরা পড়ে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তড়িঘড়ি কোম্পানির ওই ইউনিটগুলির উৎপাদন লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ওষুধের গুণমান নিয়ে কোনোভাবেই আপস করা হবে না। রাজস্থান সরকারের কাছে এই পুরো ঘটনার একটি বিস্তারিত রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।
WHO-র নজরে বিষয়টি এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ভারতের কাছে এই সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এটি একটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া এবং এখন পর্যন্ত WHO ওই কোম্পানি বা ওষুধকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করেনি। রাজস্থানের রিপোর্ট আসার পরেই তদন্তের পরবর্তী দিকগুলো স্পষ্ট হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়েছিল জ্যাকসন ল্যাবরেটরিজের তৈরি অক্সিটসিন। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার বার্তা দিতে চাইছে যে, জনস্বাস্থ্যের সাথে জড়িত যেকোনো অবহেলা কঠোর হাতে দমন করা হবে।