বেতন থেকে টিডিএস কেটেও জমা দেয়নি কোম্পানি? ৩.৯১ লক্ষের নোটিশের জবাবে আইটিএটি-র যুগান্তকারী রায়!

কোম্পানি আপনার বেতন থেকে টিডিএস (TDS) কেটে নিয়েছে, কিন্তু তা সরকারের কাছে জমা দেয়নি। আর এই ভুলের কারণে আপনার ওপর এসে পড়ল লক্ষাধিক টাকার করের নোটিশ! এমন পরিস্থিতির শিকার অনেক কর্মচারীই দিশেহারা হয়ে পড়েন। তবে সম্প্রতি মুম্বাইয়ের এক আইটি পেশাজীবীর মামলায় আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (ITAT)-এর রায় হাজার হাজার কর্মচারীর জন্য এক বড় আশার আলো দেখাল।

কী ঘটেছিল সেই মামলায়? সোফিয়া রিক নামে এক পেশাজীবী তাঁর আয়কর রিটার্ন (ITR)-এ ৩.৯১ লক্ষ টাকার টিডিএস ক্রেডিট দাবি করেছিলেন। কিন্তু কোম্পানির গাফিলতির কারণে আয়কর বিভাগ তাঁকে মাত্র ৭৯,০৩০ টাকার ক্রেডিট মঞ্জুর করে এবং বাকি ৩.৩৬ লক্ষ টাকা কর বাবদ পরিশোধের নোটিশ পাঠায়। কোম্পানি বেতন থেকে টাকা কাটলেও তা সরকারি খাতায় জমা না দেওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

আইটিএটি-র ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ: মুম্বাই আইটিএটি এই মামলায় কর্মচারীর পক্ষেই রায় দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে:

  • যদি নিয়োগকর্তা বেতন থেকে টিডিএস কেটে নেন, তবে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া নিয়োগকর্তার দায়িত্ব।

  • নিয়োগকর্তার ব্যর্থতার দায় কোনোভাবেই কর্মচারীর ওপর চাপানো যায় না।

  • ফর্ম ১৬, স্যালারি স্লিপ এবং ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টের মতো সঠিক নথি থাকলে, কর্মচারী টিডিএস ক্রেডিটের সম্পূর্ণ দাবি করতে পারেন।

আয়কর আইনের ১৯৬১ সালের ২০৫ ধারা অনুযায়ী, কর্মচারী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তার বেতন থেকে টিডিএস কাটা হয়েছে, তবে বিভাগ সরাসরি কর্মচারীর কাছ থেকে সেই কর দাবি করতে পারে না।

ভবিষ্যতে এমন বিড়ম্বনা এড়াতে কী করবেন? এই ধরণের আইনি লড়াই এড়াতে প্রতি বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি:

১. নথি যাচাই: ফর্ম ১৬, ফর্ম ২৬এএস (26AS) এবং এআইএস (AIS)-এর তথ্যের সঙ্গে আপনার ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টের মিল আছে কি না তা ভালো করে যাচাই করুন। ২. যোগাযোগ: টিডিএস-এ কোনো গরমিল নজরে পড়লে দেরি না করে অবিলম্বে আপনার কোম্পানির এইচআর (HR) বা ফিন্যান্স টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ৩. প্রমাণ সংরক্ষণ: বেতন স্লিপ, ফর্ম ১৬ এবং অন্যান্য নথি যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করুন, যা ভবিষ্যতে আইনি প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।

এই রায়টি কেবল সোফিয়ার জন্য নয়, বরং ভারতের সেই সকল লক্ষ লক্ষ কর্মজীবীর জন্য একটি বড় জয়, যারা নিয়োগকর্তার ভুলের কারণে অযথা করের বোঝা বহন করে আসছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *