কীর্তন শিল্পীদের অনুদানেরও কোটি কোটি টাকা পকেটে? বিস্ফোরক দাবি MLA রুদ্রনীলের

‘সানডে হো ইয়া মনডে, রোজ খাও আন্ডে’—স্লোগানটি প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিমের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ঘরে ঘরে জনপ্রিয়। ভিটামিন সি ছাড়া প্রায় সব প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ঠাসা এই ‘সুপারফুড’ শিশুদের শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশে অপরিহার্য। অথচ, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ভারতের সরকারি স্কুলগুলোর মিড ডে মিলের মেনু থেকে ডিমের উপস্থিতি ক্রমশই কমে আসছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে দেশজুড়ে বিতর্ক।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
দেশের মোট ২৮টি রাজ্য ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৪টিতে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া হয়। এক সময় এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থাকলেও, বর্তমানে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খাবার পরিবেশন শুরু হওয়ায় ডিমের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি বা তাদের জোট শাসিত ২২টি রাজ্যের মধ্যে মাত্র ৫টিতে (অসম, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড, বিহার ও মহারাষ্ট্র) সরকারি উদ্যোগে ডিম দেওয়া হয়। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, ছত্তিশগড় ও গোয়ার মতো রাজ্যগুলোতে প্রধানমন্ত্রী পোষণ (PM POSHAN) প্রকল্পের অধীনে ডিম পরিবেশনের কোনো অভিন্ন নীতি নেই।
রাজনীতির বেড়াজালে পুষ্টি:
রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মিড ডে মিলের মেনুতেও আমূল পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে:
-
ছত্তিশগড়: ২০১৯ সালে ডিম চালু হলেও ২০২৩ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মিলেট-ভিত্তিক পুষ্টি কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হয়েছে।
-
গোয়া: ২০২২ সালে ডিম চালু করার পরিকল্পনা হলেও ধর্মীয় ও সামাজিক আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।
-
দক্ষিণ ভারতের চিত্র: উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতের ছবিটা একেবারেই আলাদা। কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল ও তেলঙ্গানায় সরকার বদলালেও মিড ডে মিল থেকে ডিম সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, এটি কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং এটি একটি জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ।
পুষ্টিবিদদের উদ্বেগ:
শিশুর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে পুষ্টিবিদরা ডিমকে প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস বলে গণ্য করেন।
জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ডিমের প্রোটিনের জৈব-উপলব্ধতা (Bio-availability) প্রায় ৯৪ শতাংশ, যা ছোলা (৭৬%) বা সয়াবিনের (৫৪%) তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি মেটাতে ডিমের কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোতে মিড ডে মিলের এই পরিবর্তনের প্রভাব শিশুদের পুষ্টির ওপর কতটা পড়বে, তা নিয়েই এখন চিন্তিত অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্কুলের খাবারে ডিম থাকা কি জরুরি? এই বিষয়ে আপনার মতামত কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান। এরকম আরও আপডেটেড খবরের জন্য আমাদের পেজ ফলো করুন।