ইউরোপে ‘আকাশ থেকে আগুনের বৃষ্টি’! তীব্র দাবদাহে নাজেহাল জনজীবন, নেপথ্যে বড় কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা

সাধারণত বছরের বেশিরভাগ সময় শীতল আবহাওয়া বজায় থাকে ইউরোপে। কিন্তু বর্তমানে সেই ইউরোপই যেন জ্বলন্ত কড়াই! ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামসহ একাধিক দেশে চলছে ভয়াবহ দাবদাহ (Heatwave)। তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বহু অঞ্চলে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।

ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে ইউরোপ

ফ্রান্সে এই বছরের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সাক্ষী হয়েছে মানুষ। ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে প্রায় ৬৮,০০০ ঘরবাড়ি অন্ধকারে ডুবে আছে। এর মধ্যেই ব্রেন্যন জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে প্রাণপন চেষ্টা চালাচ্ছেন ১৫০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী। দেশটির ৫৮টি এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, সকাল ৫টা বাজতেই কোথাও কোথাও পারদ ছুঁয়ে ফেলছে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কেন ইউরোপে এমন ভয়াবহ গরম?

বিশেষজ্ঞরা এই চরম আবহাওয়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণকে চিহ্নিত করেছেন:

  • ওমেগা ব্লক (Omega Block): এটি বায়ুমণ্ডলের একটি বিশেষ প্যাটার্ন, যা গ্রিক অক্ষর ওমেগা ($\Omega$)-এর মতো আকৃতি তৈরি করে। এর ফলে গরম বাতাস নির্দিষ্ট একটি এলাকায় দীর্ঘসময় আটকে থাকে, যা তাপমাত্রাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

  • হিট ডোম (Heat Dome): বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে উচ্চচাপের বলয় তৈরি হওয়ার ফলে উষ্ণ বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে না, যা অনেকটা ঢাকনা দেওয়া চুল্লির মতো কাজ করে।

  • জলবায়ু পরিবর্তন: এই দীর্ঘমেয়াদী উষ্ণায়নের প্রভাবেই এই ধরনের চরম আবহাওয়া ঘনঘন দেখা দিচ্ছে।

জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব

ইউরোপের দেশগুলোতে সাধারণত ঘরবাড়িগুলো প্রচণ্ড ঠান্ডার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্তমানের এই নজিরবিহীন গরমে সেই ঘরগুলোই যেন একেকটি ‘ওভেন’-এ পরিণত হয়েছে। স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, এমনকি জনসমাগমস্থলে তৈরি করা হয়েছে ‘হিট রিফিউজ’ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আশ্রয়কেন্দ্র।

জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাঙ্গেরির মতো দেশগুলোতেও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ কোটিরও বেশি মানুষ এই ভয়াবহ দাবদাহের কবলে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী দিনে ইউরোপের আবহাওয়া আরও প্রতিকূল হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *