আরব-আমেরিকায় চাহিদা নেই? চিন্তা নেই! এবার আইসল্যান্ডের বাজারে মাতাবে ভারতীয় আম

ঐতিহ্যবাহী ক্রেতা দেশগুলোতে চাহিদা কমায় ভারতীয় আম রপ্তানিতে নতুন কৌশল নিয়েছে ভারত। মধ্যপ্রাচ্য বা আমেরিকার বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এবার বিশ্বের প্রিমিয়াম বা উচ্চমূল্যের বাজারগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই এবার আইসল্যান্ডের বাজারে জায়গা করে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারত।

আইসল্যান্ডে ভারতীয় আমের জয়যাত্রা গত ২৪ ও ২৫ জুন রেইকিয়াভিক এবং আকুরেয়রিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো ‘ইন্ডিয়ান ম্যাঙ্গো ফেস্টিভ্যাল’। রেইকিয়াভিকে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং এপিইডিএ (APEDA)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে দশেরি, চৌসা, ল্যাংড়া এবং কেশরের মতো রাজকীয় আমগুলো তুলে ধরা হয়। স্থানীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই আম নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

কেন এই নতুন কৌশল? সাম্প্রতিক বাণিজ্য তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ভারতের আম রপ্তানির বড় বাজারগুলোতে চাহিদা কমেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি ৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩.৬৪ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনেও রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। এই পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকরা এখন এমন দেশগুলোর খোঁজ করছেন, যেখানে ভোক্তারা গুণমানের জন্য চড়া দাম দিতে প্রস্তুত।

নতুন দিগন্ত: ভারত-ইএফটিএ চুক্তি আইসল্যান্ড বর্তমানে থাইল্যান্ড, ব্রাজিল ও পেরুর মতো দেশ থেকে আম আমদানি করে। তবে ভারত-ইএফটিএ (TEPA) বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে এখন আইসল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় আম প্রবেশের পথ আরও সুগম হয়েছে। এপিইডিএ-র তথ্যমতে, ২০২৫ সালে আইসল্যান্ডের আম আমদানির বাজার ছিল ৩৩ লক্ষ ডলারের, যার একটি বড় অংশ এবার ভারত দখল করতে চায়।

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে ভারত শুধু রপ্তানি বাড়াতেই আগ্রহী নয়, বরং রপ্তানিকারকদের জন্য অধিক লাভজনক বাজার নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। ওমান, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড এবং জাপানে ভারতীয় আমের চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আইসল্যান্ডকে কেন্দ্র করে নতুন একটি শক্তিশালী বাজার গড়ে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এই কৌশল সফল হলে, প্রথাগত বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে ভারতীয় আম বিশ্বমঞ্চে আরও বেশি স্বীকৃতি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *