বিরিয়ানিতে ‘বিষ’ মেশানোর অভিযোগ! সিল হলো জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকান

খাবারের মান নিয়ে লাগাতার অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বনগাঁ শহরের একাধিক হোটেল ও নামী বিরিয়ানির দোকানে যৌথ অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দফতর, বনগাঁ পৌরসভা এবং পুলিশ প্রশাসন। বিশেষত বিরিয়ানির দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতেই এই তৎপরতা।
শহরের চাকদহ রোড ও যশোর রোড সংলগ্ন এলাকায় থাকা একাধিক বিরিয়ানির দোকানে এদিন হানা দেন আধিকারিকরা। বিভিন্ন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ল্যাবরেটরিতে। অভিযানের সময় মতিগঞ্জ এলাকার একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকানের খাবারের গুণগত মান নিয়ে তীব্র সন্দেহ দেখা দেয়। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং খাবারের মান নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি থাকায় ওই দোকানটি তাৎক্ষণিকভাবে সিল করে দেওয়া হয়।
বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার জানান, “সম্প্রতি অনেক ক্রেতা খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা মাঠে নেমেছি।” অভিযোগ রয়েছে, বিরিয়ানির স্বাদ বাড়াতে ও রঙ আকর্ষণীয় করতে কিছু দোকানে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এছাড়া, দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার পুনরায় গরম করে বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে।
এক সময়কার কুখ্যাত ‘ভাগাড় কাণ্ড’-এর পর থেকেই বনগাঁর হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক বছরে শহরে বিরিয়ানির দোকানের সংখ্যা হু-হু করে বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় খাবারের গুণগত মান বজায় থাকছে কি না, তা নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, সম্প্রতি বিজেপির কালচারাল সেলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে পুরসভার কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই এদিন এমন কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন।
হোটেল বা বিরিয়ানির দোকানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে আপনার কী অভিজ্ঞতা রয়েছে? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান।