উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের বড় সাফল্য: নিহাং-পুলিশ আলোচনায় স্বাভাবিক দেরাদুন-পাওন্তা যোগাযোগ

কয়েক দিনের অচলাবস্থার পর শেষ পর্যন্ত সমাধান হলো দেরাদুন-পাওন্তা সাহেব সীমান্ত বিতর্কের। নিহাং শিখ প্রতিনিধি এবং উত্তরাখণ্ড পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সীমান্ত সিল করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় এই রুটে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং তীর্থযাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
কেন বন্ধ ছিল এই সীমান্ত? গত ১৬ জুন কর্ণপ্রয়াগে নিহাং শিখ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সংঘর্ষে চারজন স্থানীয় আহত হওয়ার জেরে পুলিশ চারজন নিহাং সদস্যকে গ্রেফতার করে। এর প্রতিবাদে এবং ধৃতদের মুক্তির দাবিতে গত ২৩ জুন নিহাংরা রুদ্রপ্রয়াগের নাগরাসু গুরুদ্বার দখল করে নেয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার কথা ভেবে পুলিশ প্রশাসন দেরাদুন-পাওন্তা সীমান্ত সিল করে দিয়েছিল। ফলে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের মধ্যে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল।
সমঝোতার পথ ও বর্তমান পরিস্থিতি পরিস্থিতি শান্ত করতে জেলা প্রশাসন ও নিহাং প্রতিনিধিদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। আলোচনা সফল হওয়ার পরপরই প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সীমান্ত খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরাদুন-পাওন্তা সাহিব সড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা সীমান্ত পুনরায় খুলে গেলেও প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। তবে পুলিশ ও সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ধৃতদের বিষয় নিয়েও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
যাতায়াত স্বাভাবিক হওয়ায় সীমান্ত এলাকার জনজীবন আবার ছন্দে ফিরছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর।