ভোজপুর কাণ্ড: তদন্তে সিবিআই বা হাইকোর্টের বিচারপতির দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক চন্দন তিওয়ারি

কুখ্যাত ভারত ভূষণ তিওয়ারি এনকাউন্টার মামলায় ক্রমাগত বাড়ছে বিতর্ক। এবার সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ আনলেন নিহতের ভাই চন্দন তিওয়ারি। চন্দনের দাবি, স্থানীয় পুলিশ সুপার (এসপি) তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মামলাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন এবং পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছেন।
নিহতের ভাইয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ সংবাদমাধ্যমের সামনে চন্দন তিওয়ারি জানান, পুলিশ সুপার বিনা অনুমতিতে এবং কোনো পূর্ব বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়েন। বাড়িতে পুরুষ সদস্যের অনুপস্থিতিতে এসপি-র এই আচরণ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। চন্দনের অভিযোগ, “এসপি আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, এই আন্দোলন এখনই বন্ধ করতে হবে, নইলে ঝামেলা বাড়বে।” চন্দনের মতে, কথা বলার সুরেই ছিল শাসানি, যা তাঁকে ভয় দেখানোর একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় চন্দন তিওয়ারি বেশ কিছু কঠোর দাবি জানিয়েছেন:
-
হাইকোর্ট বিচারপতির তত্ত্বাবধান: চন্দন জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতির পরিবর্তে বর্তমানে কর্মরত কোনো জ্যেষ্ঠ হাইকোর্ট বিচারপতির নজরদারিতে এই মামলার তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর মতে, যারা এই এনকাউন্টারের সঙ্গে জড়িত, তাদের অধীনে তদন্ত চললে নিরপেক্ষ ফল আশা করা বৃথা।
-
এসপি-র ভূমিকা ও মোবাইল পরীক্ষা: এসপি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চন্দন তাঁর মোবাইল ফোন এবং কল রেকর্ডস (CDR) পরীক্ষার দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এসপি-র নির্দেশ ছাড়া জেলা পুলিশের পক্ষে এমন বড় অভিযান চালানো সম্ভব নয়।
-
পুলিশ কর্মীদের গ্রেফতারি: অভিযোগকারী চন্দন প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এফআইআর দায়ের হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের এখনো গ্রেফতার করা হলো না? সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা হলে পুলিশ যেখানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, সেখানে পুলিশের ক্ষেত্রে কেন এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে তিনি সোচ্চার হয়েছেন।
‘মাথা নত করব না’ চন্দন তিওয়ারি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, চাপের মুখে পড়ে তিনি লড়াই থেকে সরে আসবেন না। প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো লাকি বিশতের সাথে তাঁর কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রশাসনের তরফ থেকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হলেও বিহারের মানুষ সত্যটা জানেন। ন্যায়ের আশায় তিনি শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে প্রস্তুত।
যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে চন্দনের এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই এনকাউন্টার মামলায় নিহতের পরিবারের এমন বিস্ফোরক অভিযোগ যে পুলিশের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।