পুলিশি আচরণে বড়সড় প্রশ্ন হাইকোর্টের: কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে আনা কেন?

গ্রেফতারির পর অভিযুক্তের কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে হাঁটানো কি মানবিক? এই বিতর্কিত বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে শুক্রবার এক মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, অভিযুক্ত যেই হোক না কেন, তাকে কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে নিয়ে আসা কোনোভাবেই আইনত সমর্থনযোগ্য নয়।

মামলার প্রেক্ষাপট কী? ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতারের পর তাঁর কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এর বিরুদ্ধে সরব হন তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি। মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর আর্জি ছিল, স্বামীর বিরুদ্ধে থাকা মামলার তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি পুলিশের এই অমানবিক আচরণের বিচার করা হোক।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এদিন শুনানিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন:

  • মানবাধিকার ও মর্যাদা: আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত মানেই তাঁর মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের কাজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া, কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় ধৃতের মানবিক মর্যাদাকে যেন ধুলোয় না মেশানো হয়।

  • সংবিধানের দায়বদ্ধতা: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, আইনের চোখে তাঁর নির্দিষ্ট কিছু অধিকার রয়েছে। এই অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা।

  • পুলিশি আচরণের সমালোচনা: সাম্প্রতিককালে একাধিক গ্রেফতারির ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। আইনি মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই ধরনের আচরণ আইনের শাসনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আদালত এদিন সেই সমালোচনার সুরেই প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছে।

কেন এই সতর্কতা? আইনজীবীদের একাংশের মতে, নিরাপত্তার প্রয়োজনে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেই পারে, তবে প্রকাশ্যে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া এক ধরনের ‘অপমানজনক’ আচরণ। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অভিযুক্তদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতিতে পুলিশি কড়াকড়ি থাকলেও, মানবিকতার বিষয়টিকেও প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *