জুনের শেষেও খরা পরিস্থিতি? কেন বর্ষার চেনা ছন্দে এল বাধা, জানালেন আবহাওয়াবিদরা

মৌসুমী বায়ু দেশে প্রবেশ করলেও বর্ষার সেই চেনা ছবি এবছর যেন অধরা। জুনের শেষলগ্নে দাঁড়িয়েও দেশের বিস্তীর্ণ অংশ এখনও মেঘহীন এবং শুষ্ক। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি মাসে বৃষ্টির ঘাটতি এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে, যা কৃষিকাজ ও জলসম্পদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে? আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে সামগ্রিক বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই বছরটি গত প্রায় দেড়শো বছরের মধ্যে জুন মাসে অন্যতম শুষ্ক মরসুম হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: গুজরাটে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৮৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং কেরলে বৃষ্টির অভাব মারাত্মক আকার নিয়েছে।

  • উদ্বেগের কারণ: উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং মধ্য ভারতের বড় অংশজুড়ে ঘন মেঘের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পের প্রবাহ দুর্বল থাকার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কেন এই বিলম্ব? আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো (El Nino)-র প্রভাব এবং বায়ুপ্রবাহের প্যাটার্নে পরিবর্তনের কারণে বর্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ সময়ে মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হয়ে যেভাবে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, এবছর তা বেশ ধীরগতির ও অনিয়মিত। যদিও ২৩ জুনের পর থেকে কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা দেখছে হাওয়া অফিস, তবুও সঞ্চিত ঘাটতি পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষিতে প্রভাবের আশঙ্কা দেশের অর্থনীতি ও কৃষিকাজ অনেকাংশেই মৌসুমী বায়ুর বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। খারিফ শস্য বোনার ভরা সময়ে এই বৃষ্টির ঘাটতি কৃষকদের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। জুলাই মাসে বর্ষা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আবহাওয়া দফতর পরিস্থিতি নজরে রাখছে এবং নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *