ভোলা সিংয়ের পর এবার অসিত! আসানসোলে তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিতে শোরগোল

দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই পলাতক থাকা বারাবনির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অসিত সিংহকে শেষমেশ গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ডুবুরডিহি চেকপোস্টের কাছ থেকে তাঁকে ধরা হয়। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিংহ এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী আকবরকেও।
‘ত্রাস’ থেকে হাজতবাস
বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসিত সিংহের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছর ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, তোলাবাজি এবং বেআইনি কয়লা ও বালি কারবারে মদতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ, আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতা গোটা বারাবনি ব্লকে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ওপর অত্যাচার, ভয় দেখানো ও ঘরছাড়া করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি, অতীতে থানায় নিজের জন্মদিন পালন করিয়ে তৎকালীন পুলিশ আধিকারিককে বিতর্কে জড়ানোর ঘটনাও রাজ্যজুড়ে শিরোনাম হয়েছিল।
কোমরে দড়ি, কড়া নিরাপত্তা
শুক্রবার সকালে অসিত সিংহ ও তাঁর সহযোগীদের কোমরে দড়ি পরিয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকে তাঁদের তোলা হয় আসানসোল আদালতে। তবে ভোলা সিংয়ের গ্রেফতারির দিনের মতো এদিন আদালত চত্বরে উত্তাল ডিম-হামলার ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভকারীরা জুতো দেখিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কারণে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।
কেন এই সতর্কতা?
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সালানপুরের প্রভাবশালী নেতা ভোলা সিং গ্রেফতার হওয়ার সময় আদালত চত্বরে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল এবং এলাকায় তাঁকে হাঁটানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই অসিত সিংয়ের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভের আঁচ পেয়েছিল পুলিশ। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই তাঁকে হিরাপুর থানায় সরিয়ে রাখা হয়েছিল।
গ্রেফতারের পর মুখ খুলতে চাইনি এই দাপুটে নেতা। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কেবল বলেন, “কী আর বলব, সবই তো দেখতে পাচ্ছেন।” এখন দেখার বিষয়, বারাবনির দীর্ঘদিনের এই ‘ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই কতদূর পর্যন্ত গড়ায়।