প্রয়াগরাজ থেকে বারাণসী: বৃত্তি প্রকল্পে রেকর্ড সাফল্য, স্বচ্ছতাতেই বাজিমাত যোগী সরকারের

অর্থনৈতিক অনটনের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয় আর নেই। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকারের ‘পোস্ট-ম্যাট্রিক বৃত্তি ও ফি পরিশোধ প্রকল্প’ রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২৭ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক মাইলফলক।

সফলতার শীর্ষে প্রয়াগরাজ রাজ্যের মধ্যে সুবিধাভোগীর সংখ্যার নিরিখে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে প্রয়াগরাজ। সেখানে ১,৬৯,৪৮৯ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছে। সাফল্যের তালিকায় প্রয়াগরাজের পরেই রয়েছে:

  • গাজিপুর: ১.৩৪ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী।

  • আজমগড়: ১.১৯ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী।

  • জৌনপুর: ১.১৫ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থী।

  • বারাণসী: ৮৮,৮৫৯ জন শিক্ষার্থী।

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও সুবিধার বিস্তৃতি এই প্রকল্প কেবল সাধারণ স্নাতক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বি.টেক, এমবিবিএস, এমবিএ থেকে শুরু করে আইটিআই এবং পলিটেকনিকের মতো পেশাগত কোর্সের শিক্ষার্থীরাও এই বৃত্তির আওতায় এসেছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নারী শিক্ষার ওপর। তথ্য অনুযায়ী, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রায় ৪.৭২ লক্ষ এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লক্ষ ছাত্রী এই বৃত্তি পেয়েছে। এমনকি ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদেরও মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে এই প্রকল্পে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ বিভাগের পরিচালক উমেশ প্রতাপ সিং জানিয়েছেন, যোগী সরকারের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যাতে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে। ‘স্কলারশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইন করার ফলে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ উপায়ে টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (DBT) পৌঁছে যাচ্ছে।

আবেদনকারীদের বাবা-মায়ের বার্ষিক আয় ২ লক্ষ টাকা বা তার কম হতে হবে—এই শর্তে যারা যোগ্য, তারা প্রত্যেকেই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে সরকারি এই সাহায্যের সুবিধা পাচ্ছেন। যোগী সরকারের এই উদ্যোগ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ প্রশস্ত করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *