ভারতকে ঘিরে বড় স্বপ্ন অ্যামাজন সিইও-র: মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর ২০৩০ পর্যন্ত বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণা

ভারতের শিল্প ও অর্থনৈতিক মানচিত্রে নতুন আশার আলো। ই-কমার্স এবং প্রযুক্তি খাতের বিশ্বখ্যাত সংস্থা ‘অ্যামাজন’ ভারতে আগামী ৪ বছরে ৪৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ভারত সফরে এসে অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরই এই ঐতিহাসিক লগ্নি ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের খতিয়ান:
-
বিনিয়োগ: ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যামাজন ভারতে ৪৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি মূলত আগে ঘোষিত ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সঙ্গে আরও ১৩ বিলিয়ন ডলারের নতুন ‘টপ-আপ’। সব মিলিয়ে ২০১০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে অ্যামাজনের মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৮৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
-
কর্মসংস্থান: ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যামাজন ভারতে মোট ৩৮ লাখ (৩.৮ মিলিয়ন) মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। বর্তমানে এই সংখ্যা ২৮ লাখ, অর্থাৎ আগামী চার বছরে আরও ১০ লাখ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
কোন কোন ক্ষেত্রে বিশেষ জোর? অ্যামাজন জানিয়েছে, ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে মূলত ৪টি ক্ষেত্রের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: ১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ক্লাউড কম্পিউটিং: অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS)-এর পরিকাঠামো আরও উন্নত করা হবে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে। ২. ই-কমার্স ও লজিস্টিকস: ভারতের প্রতিটি কোণায় ডেলিভারি নেটওয়ার্ক পৌঁছাতে লজিস্টিকস ও মাইক্রো-ফুলফিলমেন্ট সেন্টারের পরিধি বাড়ানো হবে। ৩. রফতানি: স্থানীয় উৎপাদনকারীদের পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে অ্যামাজন ‘গ্লোবাল সেলিং’ প্ল্যাটফর্মে বিশেষ জোর দিচ্ছে। ৪. দক্ষতা উন্নয়ন: ভবিষ্যতের প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ভারতীয় যুবকদের জন্য বিভিন্ন বিশেষ প্রশিক্ষণ ও স্কিলিং প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
মহারাজ্যের ওপর বিশেষ নজর: অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। মুম্বই ও পুনেকে কেন্দ্র করে অ্যামাজন তাদের প্রযুক্তি ও অপারেশনাল কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামাজনের এই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ভারতের তরুণ প্রজন্মের জন্য যেমন নতুন চাকরির দুয়ার খুলে দেবে, তেমনি দেশের ছোট ও মাঝারি শিল্পকেও আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।